দেশের খাদ্যপণ্যে ভেজাল, দূষণ ও ক্ষতিকর রাসায়নিকের উপস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। রোববার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি মোকাবিলায় আয়োজিত বৈঠকে তিনি বলেন, “খাদ্যে বিভিন্ন দূষণের অস্তিত্ব আমরা জানি। এখন জরুরি উদ্যোগ নিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।”
তিনি আরও জানান, নিজেদের স্বার্থেই সবাইকে একসঙ্গে এই সংকট মোকাবিলায় কাজ করতে হবে। কোন পদক্ষেপ এখনই নেওয়া জরুরি—তা নির্ধারণ করে দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। এজন্য তিনি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে এক সপ্তাহের মধ্যে খাদ্যদূষণ প্রতিরোধে কার্যকর প্রস্তাবনা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
বৈঠকে কৃষি, খাদ্য, স্বাস্থ্য, স্বরাষ্ট্র, প্রাণিসম্পদ, নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ বিএসটিআই, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জানায়—খাদ্যে চার ধরনের দূষক পাওয়া যায়: ভারী ধাতু, কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ, তেজস্ক্রিয়তা, জৈবদূষক পরীক্ষা করা নমুনার মধ্যে ১৮০টির ২২টিতে সীসা পাওয়া গেছে
ইউনিসেফের জরিপ অনুযায়ী দেশে ৩.৫ কোটি শিশু সীসা সংক্রমণে আক্রান্ত সীসা শিশুদের মস্তিষ্ক, যকৃত, কিডনি ও হাড়ে জমে মানসিক বিকাশ ব্যাহত করে ৫ % গর্ভবতী নারীর শরীরেও সীসার সংক্রমণ পাওয়া গেছে এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সংগৃহীত ৮৭টি পানি ও ২৩টি মাছের নমুনায় ৩০০ ধরনের ওষুধ, ২০০ ধরনের কীটনাশক ও ১৬ ধরনের পিএফএএস রাসায়নিক শনাক্ত হয়েছে।
কৃষি ও খাদ্য মন্ত্রণালয় কর্মকর্তারা মুরগি ও পোল্ট্রি খাতে অনিয়ন্ত্রিত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেন। অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগের পর ৭–২৮ দিন পর্যন্ত তা মুরগির শরীরে থাকে, কিন্তু অনেক খামার আগেই মুরগি বিক্রি করে দেয়—যা মানুষের দেহে অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক প্রবেশ করায়।
বড় প্রতিষ্ঠানগুলো সচেতন হলেও চোরাগোপ্তা অনেক পোল্ট্রি ফার্ম নজরদারি এড়িয়ে অনিয়ন্ত্রিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে জানান তারা।
খাদ্য উপদেষ্টা বলেন, “পর্যাপ্ত খাবার নিশ্চিত করতে গিয়ে আমরা কখনো কখনো খাদ্যের নিরাপত্তাকেই উপেক্ষা করছি।” তিনি গণমাধ্যমকে জনসচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান এবং পাঠ্যবইয়ে খাদ্যনিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় যুক্ত করার পরামর্শ দেন।
বৈঠকে দ্রুত নজরদারি বাড়ানো, কৃষিতে অবৈধ কীটনাশক নিয়ন্ত্রণ এবং খাদ্যে সীসা দূষণ রোধে যৌথ গবেষণা চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক