স্থানীয়ভাবে ‘হিন্দুপাড়া’ নামে পরিচিত এ মহল্লার অধিকাংশ বাসিন্দা সনাতন ধর্মাবলম্বী জেলে ও নিম্নআয়ের মানুষ। টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে এলাকার প্রায় সব বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও ঘরের মেঝে, আবার কোথাও চাল পর্যন্ত পানি উঠে যাওয়ায় বহু পরিবার তিন দিন ধরে নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করছে।
পরিদর্শনকালে ডা. শফিকুর রহমান ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দুর্ভোগের কথা শোনেন। পরে তিনি কোমরসমান পানি মাড়িয়ে কয়েকটি বাড়িতে গিয়ে প্রবীণ, নারী ও শিশুদের খোঁজ নেন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে নগদ অর্থ ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা কিরণ বালা জলদাস বলেন, “অনেকেই আমাদের এলাকায় আসেননি। তিনি এসে ঘরে ঘরে খোঁজ নিয়েছেন এবং আমাদের বাস্তব পরিস্থিতি দেখেছেন।”
আরেক বাসিন্দা ফারাছা বেগম বলেন, “ঘরের চাল পর্যন্ত পানি উঠে গেছে। তিন দিন ধরে আশ্রয়কেন্দ্রে আছি। তিনি এসে আমাদের খোঁজ নিয়েছেন এবং সহযোগিতা করেছেন।”
স্থানীয়দের ভাষ্য, গুনাগরির এ হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় কয়েক শতাধিক পরিবার বসবাস করে। ভয়াবহ বন্যায় তাদের মাছ ধরার জাল, নৌকা, গবাদিপশু ও গৃহস্থালির আসবাবপত্রসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ত্রাণ বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “দুর্যোগে মানুষের পরিচয় একটাই—সে একজন বিপন্ন মানুষ। এখানে ধর্ম, বর্ণ কিংবা রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচ্য নয়। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের মানবিক ও নৈতিক দায়িত্ব।”
তিনি দুর্যোগে আক্রান্ত মানুষের পাশে সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে আসতে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি আহ্বান জানান।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক