চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অবস্থিত আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (আইআইইউসি) ক্যাম্পাসের ইসলামী ব্যাংকের এটিএম ও কালেকশন বুথ থেকে ১৭ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় দায়িত্বরত এক নিরাপত্তাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চুরির পর কয়েকদিন পলাতক থাকার পর রংপুর থেকে তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে চুরি হওয়া অর্থের প্রায় ১৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত আইয়ুব আলী প্রায় দেড় বছর ধরে আইআইইউসি ক্যাম্পাসে ইসলামী ব্যাংকের এটিএম ও কালেকশন বুথে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দীর্ঘদিন একই বুথে দায়িত্ব পালন করায় বুথের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, কর্মকর্তাদের কার্যক্রম, অর্থ সংরক্ষণের পদ্ধতি এবং লকার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত ধারণা অর্জন করেন।
তদন্তে জানা গেছে, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তৈরি করা একটি নকল চাবি ব্যবহার করে তিনি বুথের লকার খুলে এক হাজার টাকার ১৭টি বান্ডিল, অর্থাৎ মোট ১৭ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে যান। বুথে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে তাকে লকার খুলে টাকা নিয়ে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়।
ঘটনার পর ইসলামী ব্যাংকের আইআইইউসি শাখার ইনচার্জ মইনুল ইসলাম বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় আপাতত একমাত্র আসামি করা হয়েছে আইয়ুব আলীকে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ফয়েজ আহমেদ জানান, মামলা দায়েরের পর প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত শুরু হয়। অভিযুক্তের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড বিশ্লেষণ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৬ জুন রংপুরের কামারপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, চুরি হওয়া অর্থের সম্পূর্ণ হিসাব, ঘটনার পরিকল্পনা এবং এ ঘটনায় অন্য কোনো ব্যক্তি বা সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত ছিল কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, একজন নিরাপত্তাকর্মীর পক্ষে নকল চাবি ব্যবহার করে ব্যাংকের লকারে প্রবেশ করতে পারা নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়। তাই মূল চাবির নিরাপত্তা, লকার ব্যবস্থাপনা, প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ এবং তদারকি ব্যবস্থার কার্যকারিতা খতিয়ে দেখা জরুরি।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, শুধু অভিযুক্তের বিচার নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়; কীভাবে এমন নিরাপত্তা দুর্বলতা তৈরি হলো, কোনো গাফিলতি বা যোগসাজশ ছিল কি না এবং ভবিষ্যতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিচালিত ব্যাংকিং বুথগুলোতে এ ধরনের ঘটনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তাদের মতে, এ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তই ভবিষ্যতের নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক