সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার শরিফ সলঙ্গা এলাকায় মেয়েকে দীর্ঘদিন ধরে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় এক পরিবারের ওপর সশস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চাচা-ভাতিজাসহ দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনের ফুসফুসে গুরুতর আঘাত লাগায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। একই ঘটনায় চিকিৎসার জন্য সংরক্ষিত নগদ ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা লুটের অভিযোগও উঠেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. নূরুল ইসলাম (৫৩) সলঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে মো. শাকিল আহমেদ, তার বাবা মো. আব্দুর রাজ্জাক মাস্টার, পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য এবং অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নূরুল ইসলামের মেয়েকে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় এক যুবক বিভিন্নভাবে উত্যক্ত করে আসছিলেন। বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্তের পরিবারকে একাধিকবার অবহিত করা হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো নূরুল ইসলামকে হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, পূর্ববিরোধের জেরে অভিযুক্তরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে নূরুল ইসলামের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তার ছোট ভাই আলমাছকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে নূরুল ইসলামের ছেলে আশরাফুল ইসলামকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, আশরাফুলকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টাও করা হয়।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসকরা আশরাফুল ইসলামের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হামলার সময় অভিযুক্তরা ঘরের তালা ভেঙে চিকিৎসার জন্য সংরক্ষিত নগদ ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা নিয়ে যায়। ঘটনাস্থল ত্যাগের আগে তারা পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকিও দেয়। হামলার সময় ফেলে যাওয়া একটি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যরা সলঙ্গা থানায় জমা দিয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সলঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আসলাম আলী, পিপিএম বলেন, "ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইতোমধ্যে মামলার ২ নম্বর আসামি আব্দুর রাজ্জাক মাস্টার (৫২)-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক