মৃত্যুকে হারিয়ে বাবাকে উৎসর্গ, আজতেকায় হিমেনেজের অশ্রুসিক্ত প্রত্যাবর্তন

  • প্রথম দর্পণ,স্পোর্টস ডেক্স
  • আপলোড সময় : ১২ জুন ২০২৬, ১১:০৬ রাত
  • ৭৪৮৬ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

চার বছর আগে মাঠে লুটিয়ে পড়েছিলেন ভয়াবহ এক দুর্ঘটনায়। চিকিৎসক, সমর্থক ও ফুটবলবিশ্বের অনেকেই শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন—রাউল হিমেনেজ আদৌ আর পেশাদার ফুটবলে ফিরতে পারবেন কি না। সেই হিমেনেজই বিশ্বকাপের মঞ্চে গোল করে মেক্সিকোকে জয় এনে দিলেন। গোলের পর আকাশের দিকে তাকিয়ে অশ্রুসিক্ত চোখে স্মরণ করলেন প্রয়াত বাবাকে।

শুক্রবার এস্তাদিও আজতেকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারিয়েছে মেক্সিকো। দলের দ্বিতীয় গোলটি আসে রাউল হিমেনেজের হেড থেকে। ৬৭তম মিনিটে রবার্তো আলভারাদোর নিখুঁত ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে জাল খুঁজে নেন অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ড।

তবে গোলটির গুরুত্ব ছিল স্কোরলাইনের চেয়েও অনেক বেশি। এটি ছিল এক ফুটবলারের জীবনের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায় পেরিয়ে ফিরে আসার প্রতীক।

২০২০ সালের ২৯ নভেম্বর প্রিমিয়ার লিগে আর্সেনালের বিপক্ষে ম্যাচে ভয়াবহ সংঘর্ষে মাথার খুলিতে গুরুতর আঘাত পান হিমেনেজ। জরুরি অস্ত্রোপচার করতে হয় তাকে। এক পর্যায়ে তার ক্যারিয়ারই অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে যায়। দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের পর প্রায় ২২৯ দিন পর মাঠে ফিরেছিলেন তিনি।

এরপর চলতি বছরের মার্চে নেমে আসে আরেক ব্যক্তিগত শোক। বিশ্বকাপের প্রস্তুতির মাঝেই মারা যান তার বাবা, যিনি ছোটবেলা থেকে ফুটবলজীবনের প্রতিটি ধাপে পাশে ছিলেন। সেই শোক বুকে নিয়েই বিশ্বকাপের মঞ্চে নামেন মেক্সিকান তারকা।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে গোল করার পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি ৩৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। সতীর্থদের উল্লাসের মাঝেও চোখের জল মুছতে দেখা যায় তাকে। যেন নীরবে বাবাকে জানিয়ে দিলেন—তার স্বপ্ন এখনো বেঁচে আছে।

জাতীয় দলের হয়ে এটি ছিল হিমেনেজের ৪৬তম আন্তর্জাতিক গোল। এর মাধ্যমে তিনি মেক্সিকোর সাবেক স্ট্রাইকার জ্যারেড বোরহেত্তির গোলসংখ্যা স্পর্শ করেছেন। দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার দৌড়ে এখন তার সামনে রয়েছেন শুধু হাভিয়ের ‘চিচারিতো’ হার্নান্দেজ, যার নামের পাশে রয়েছে ৫২টি আন্তর্জাতিক গোল।

স্কোরবোর্ডে এটি ছিল মেক্সিকোর একটি জয়। কিন্তু রাউল হিমেনেজের জন্য এটি ছিল আরও বড় কিছু—মৃত্যুভয়কে জয় করার গল্প, শোককে শক্তিতে রূপান্তরের গল্প এবং অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলার এক অনন্য প্রত্যাবর্তনের গল্প।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad