দেশে স্বাধীন, শক্তিশালী ও দুর্নীতিমুক্ত বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিচার বিভাগের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে হবে। এ ক্ষেত্রে নবীন আইনজীবীদের মেধা, সততা, পেশাদারিত্ব ও নৈতিক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ঢাকা আইনজীবী সমিতির নবীন সদস্যদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, আইন পেশায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কোনো শর্টকাট পথ নেই। মেধা, প্রজ্ঞা, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমেই একজন আইনজীবীকে নিজের অবস্থান তৈরি করতে হয়। একজন বিপদগ্রস্ত মানুষ আল্লাহর পর আইনজীবীর কাছেই আস্থা ও ভরসা নিয়ে আসেন। তাই মক্কেলের বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষা করা আইনজীবীদের নৈতিক দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, আদালতে যাওয়ার আগে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও আইনের গভীর জ্ঞান অর্জন করতে হবে। একই সঙ্গে বিচারকদেরও আইনের ঊর্ধ্বে মনে করার সুযোগ নেই। কোনো বিচারকের কর্মকাণ্ডে বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হলে তাঁকেও আইনের আওতায় জবাবদিহি করতে হবে।
আদালত অঙ্গনে দলীয় আধিপত্য ও ক্ষমতার দম্ভ পরিহারের আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আইনজীবীদের আদালতে আইনের যুক্তি তুলে ধরতে হবে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
নবীন আইনজীবীদের প্রশিক্ষণে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ
আইন পেশায় নবীনদের প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, সনদ পাওয়ার পর অনেক আইনজীবী পেশাগত জীবনে প্রবেশ করলেও পর্যাপ্ত প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের সুযোগ পান না। অনেক ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের সঙ্গে কাজ করেও তাঁরা যথাযথ সহযোগিতা ও ন্যায্য পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত হন। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন।
তিনি জানান, নবীন আইনজীবীদের প্রশিক্ষণের জন্য চলতি বছর আইন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি কোম্পানিতে আইনজীবীদের কর্মসংস্থান বাড়াতে প্রতিটি কোম্পানিতে একজন করে আইনজীবী নিয়োগের বিধান প্রবর্তনের লক্ষ্যে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কোম্পানি আইন সংশোধনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
আইনজীবীদের পেশাগত স্বচ্ছতা, সততা ও নৈতিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, একজন আইনজীবী ১০টি মামলা পরিচালনা করলে অন্তত দুটি মামলা দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য বিনা পারিশ্রমিকে পরিচালনা করতে পারেন।
হত্যাকাণ্ড ও গুমের বিচার নিশ্চিতের অঙ্গীকার
বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সব হত্যাকাণ্ড, অন্যায় ও অবিচারের বিচার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।
তিনি বিগত ১৬ বছরের বেশি সময়ের আন্দোলনে সাড়ে চার হাজারের বেশি সহযোদ্ধাকে হারানো, সাত শতাধিক মানুষের গুম এবং ৬০ লাখের বেশি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা করার বিষয় উল্লেখ করেন। এসব অন্যায়-অবিচারের বিচার নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
নবীন আইনজীবীদের আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকার ও জনগণের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিচার বিভাগকে স্বাধীন, শক্তিশালী ও কার্যকর করার মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনোয়ার জাহিদ ভূইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, সমিতির সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ, বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এবং নবীন আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক