চট্টগ্রামে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু, স্বামীসহ আটক ২

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৫২ বিকাল
  • ৩০২৩ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

উপশিরোনাম: নির্যাতন ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মামলা; ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন অপেক্ষায় পুলিশ

চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশে স্বামীর বাসা থেকে উম্মে হাবিবা (২৪) নামে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে হাজী চান মিয়া রোডের কালারপুল এলাকার কাসেম ভিলার তৃতীয় তলার একটি বাসা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে নিহতের স্বামীসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। পুলিশ দুজনকে আটক করেছে।

মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে নিহতের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। একই দিন তাঁর বড় ভাই মো. ইদ্রিস রানা (৩৭) বাদী হয়ে পাঁচলাইশ থানায় মামলাটি করেন। এজাহারে পাঁচজনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।

এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন নিহতের স্বামী মাহমুদুল হাসান (২৪), তাঁর বোন শাকিলা (২২), ভাই বখতিয়ার হোসেন (৩৬), মা রওশন আক্তার (৫৩) এবং বখতিয়ারের স্ত্রী জারিয়াতুল মোস্তাফা বেগম (২৮)। তাঁদের সবার বাড়ি বাঁশখালী উপজেলার সাধনপুর এলাকায়।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি পারিবারিকভাবে মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে উম্মে হাবিবার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তাঁরা পাঁচলাইশের কাসেম ভিলার তৃতীয় তলার বাসায় বসবাস করতেন। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই মাহমুদুল তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফির টাকা দাবি করে আসছিলেন। টাকা দিতে না পারায় হাবিবাকে প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। স্বামীর পরিবারের অন্য সদস্যরাও এতে প্ররোচনা দিতেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, হাবিবা বিভিন্ন সময়ে পরিবারের সদস্যদের কাছে নির্যাতনের কথা জানিয়েছিলেন। তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় অনাগত সন্তানের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে তিনি নির্যাতন সহ্য করেও সংসার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছিলেন।

মঙ্গলবার বিকেলে চমেক হাসপাতালের মর্গের সামনে নিহতের বড় ভাই ইদ্রিস রানা সাংবাদিকদের বলেন, তাঁদের এক চাচাতো ভাইকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন ফোন করে হাবিবার আত্মহত্যার খবর দেন। পরে তাঁরা মাহমুদুল হাসানের বাসায় গিয়ে বোনের মরদেহ দেখতে পান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মাহমুদুল তাঁদের জানিয়েছিলেন, হাবিবা ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

ইদ্রিস রানা অভিযোগ করেন, তিনি চট্টগ্রাম নগরীতেই থাকেন; তারপরও তাঁকে সরাসরি মৃত্যুর খবর না দিয়ে চাচাতো ভাইকে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁদের সন্দেহ তৈরি হয়েছে। স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতনের কারণে হাবিবা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। তাঁকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়া হয়েছে কি না, সেই আশঙ্কার কথাও জানান নিহতের ভাই।

নিহত উম্মে হাবিবা চট্টগ্রাম কলেজের উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর স্বামী মাহমুদুল হাসান ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। মাহমুদুল বাঁশখালী উপজেলার সাধনপুর ইউনিয়নের মোবারক আলীর ছেলে। অন্যদিকে হাবিবা কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের নুরুল কবির ও সাবেকুন নাহারের ছোট মেয়ে। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট।

পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক জানান, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং দুজনকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad