সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: জনস্বাস্থ্য, প্রাণিস্বাস্থ্য ও পরিবেশের পারস্পরিক সম্পর্ক বিবেচনায় সমন্বিত স্বাস্থ্যব্যবস্থা বাস্তবায়ন এবং আন্তবিভাগীয় সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে সিরাজগঞ্জে ওয়ান হেলথ ডে-২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি ও জেলা পর্যায়ে ওয়ান হেলথ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় হেইফার ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের অর্থায়নে এবং সিরাজগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সার্বিক সহযোগিতায় কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে থেকে র্যালিটি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় উদ্বোধক ও সভাপতিত্ব করেন সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. নুরুল আমীন। তিনি স্বাগত বক্তব্যে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, সংক্রামক ও প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া রোগ প্রতিরোধ এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ কে এম আনোয়ারুল হক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ি সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) জেরিন আহমেদ, সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবদুর রহমান, সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. হারুন অর-রশিদ খান হাসান, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. তাসলিমা জান্নাত, কো-অর্ডিনেটর মেডিকেল অফিসার ডা. উম্মে হাবিবা, জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর এস এম মনজুর আলম, সিরাজগঞ্জ পৌরসভার মেডিকেল অফিসার ডা. এ কে এম ফরহাদ হোসাইন, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের গৌতম কুমার সাহা এবং সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোছা. শারমিন খন্দকার।
অনুষ্ঠানে ওয়ান হেলথ ধারণার বৈশ্বিক ও জাতীয় প্রেক্ষাপট, সরকারের অগ্রাধিকার এবং এ ক্ষেত্রে হেইফার ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের চলমান কার্যক্রম ও অবদান নিয়ে তথ্যভিত্তিক উপস্থাপনা তুলে ধরেন সংস্থাটির রিজিওনাল প্রোগ্রাম ম্যানেজার ফাতেমা কানিজ।
উপস্থাপনায় মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশের স্বাস্থ্যকে পরস্পর নির্ভরশীল হিসেবে বিবেচনা করে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। বিশেষভাবে জুনোটিক রোগ, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর), খাদ্যনিরাপত্তা, প্রাণিস্বাস্থ্য, নিপাহ ভাইরাস, নিরাপদ পরিবেশ এবং রোগের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে বিভিন্ন খাতের সম্মিলিত ভূমিকার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
সভায় বক্তারা বলেন, মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা শুধু চিকিৎসাসেবার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রাণীর স্বাস্থ্য, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, পরিবেশের ভারসাম্য এবং রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার সঙ্গে মানুষের সুস্থতা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি শনাক্ত করা, রোগের আগাম সতর্কতা জারি, তথ্য আদান-প্রদান এবং সমন্বিত প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি।
কর্মসূচিতে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য ও প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞ, উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী এবং স্থানীয় পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট অংশীজন অংশ নেন।
তথ্যসূত্র: আয়োজক সূত্র ও অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্য

আজিজুর রহমান মুন্না,সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি