মাঠজুড়ে আমনের সোনালি শীষ, বাম্পার ফলনের আশা

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৯ দুপুর
  • ৩৪৩৯ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
রাজশাহীর মাঠজুড়ে পেকে উঠছে আমন ধান। কোথাও সোনালি শীষে দুলছে মাঠ, কোথাও শুরু হয়েছে আগাম জাতের ধান কাটা ও মাড়াই। অনুকূল আবহাওয়া এবং রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ তুলনামূলক কম থাকায় এবার বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা। তবে ধান ঘরে তোলা এবং উৎপাদন খরচের তুলনায় ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগও রয়েছে।

গত বুধবার তানোর, গোদাগাড়ী ও পবা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আগাম জাতের আমন ধান কাটতে মাঠে নেমেছেন কৃষকরা। কেউ কাস্তে দিয়ে ধান কাটছেন, কেউ আঁটি বেঁধে জমিতে স্তূপ করছেন। কোথাও চলছে মাড়াইয়ের প্রস্তুতি। বিশেষ করে নিচু জমি ও আগাম রোপণ করা ক্ষেতের ধান পাকতে শুরু করেছে।

আবহাওয়া অনুকূলে, ফলনের আশা

তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল জলিল বলেন, মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় ধান নিয়ে দুশ্চিন্তা ছিল। পরে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধানের গাছ ও শীষ ভালো হয়েছে। আগাম রোপণ করা জমির ধান পাকতে শুরু করেছে, কিছু জমিতে কাটাও হয়েছে। রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ তুলনামূলক কম থাকায় এবার ভালো ফলনের আশা করছেন তিনি।

পবা উপজেলার কৃষক রজব আলী বলেন, ধানের শীষ দেখে ভালো ফলনের প্রত্যাশা করছেন। ফলন ভালো হলে পরিবারের সারা বছরের খাদ্যের চাহিদা অনেকটাই পূরণ হবে। ধান বিক্রি করে কিছু অর্থও পাওয়া যাবে। তবে উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারদর কেমন হবে, তা নিয়ে তাঁর উদ্বেগ রয়েছে।

গোদাগাড়ীর কৃষক মোসলেম উদ্দিন বলেন, আগাম জাতের ধান পাকায় কাটা শুরু করেছেন। এখন পর্যন্ত অনুকূল আবহাওয়ায় কোনো ক্ষতি হয়নি। বড় ধরনের দুর্যোগ না হলে বিঘাপ্রতি ভালো ফলন পাওয়ার আশা করছেন তিনি।

আমন কাটার পর রবি শস্যের প্রস্তুতি

তানোর, মোহনপুর ও পবা উপজেলার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আমন ধান ঘরে তোলার পর একই জমিতে আলু, সরিষা ও পেঁয়াজসহ বিভিন্ন রবি শস্য আবাদ করবেন অনেকে। আগাম ধান কাটা শেষ হলে দ্রুত জমি প্রস্তুত করে পরবর্তী ফসল চাষের সুযোগ পাবেন তাঁরা।

কৃষকদের মতে, একই জমিতে ধারাবাহিকভাবে একাধিক ফসল আবাদ করা গেলে উৎপাদন ও আয়—দুটিই বাড়বে। এতে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহারও নিশ্চিত হবে।

জেলায় আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ৮৩ হাজার ৬০০ হেক্টর

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, রাজশাহীর তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ৮৩ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ এবং ৩ লাখ ১৪ হাজার ৩৩৬ টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর মধ্যে গোদাগাড়ী উপজেলায় ২৩ হাজার ৭৬২ হেক্টর এবং তানোর উপজেলায় ২১ হাজার ৯৮০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। জেলার মধ্যে এ দুই উপজেলাতেই আমন আবাদ বেশি।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমনের ফলন আবহাওয়া, উন্নত জাতের বীজ, সময়মতো রোপণ ও জমির পরিচর্যার ওপর নির্ভর করে। এবার অনুকূল আবহাওয়া এবং তুলনামূলক কম রোগবালাইয়ের কারণে অনেক এলাকায় ধানের গাছ ও শীষের গঠন ভালো হয়েছে। তবে ধান পুরোপুরি ঘরে না ওঠা পর্যন্ত অতিবৃষ্টি, ঝড়সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি রয়েছে।

তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহমেদ বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। মাঠের সার্বিক অবস্থা ভালো। আগাম জাতের কিছু ধান পাকতে শুরু করেছে এবং কৃষকরা কাটা শুরু করেছেন। রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ মোকাবিলায় কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া শেষ পর্যন্ত অনুকূলে থাকলে ভালো ফলন পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন তিনি।

রাজশাহীর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মিতা সরকার বলেন, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছেন। কিছু এলাকায় আগাম জাতের ধান পাকতে শুরু করেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

ধান কাটার মৌসুম ঘিরে তানোর ও গোদাগাড়ীতে কৃষকদের ব্যস্ততা বাড়ছে। ভালো ফলনের পাশাপাশি উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হলে কৃষকেরা আরও লাভবান হবেন বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
Sidebar Ad