বঙ্গোপসাগরে নতুন নিম্নচাপ, ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩২ রাত
  • ২২৭৯ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
২ নভেম্বর অন্ধ্র উপকূলে পৌঁছাতে পারে, বাতাসের গতি হতে পারে ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার

ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাব কাটতে না কাটতেই বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হয়েছে নতুন একটি নিম্নচাপ। এটি ক্রমেই শক্তি সঞ্চয় করছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছে ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি)। সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টির নাম হবে ‘মুরাসু’।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) আইএমডির পূর্বাভাসে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার পর এটি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। আগামী ২ নভেম্বর সন্ধ্যার দিকে ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্রের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি ৩ নভেম্বর সকালে অন্ধ্র উপকূলে আঘাত হানতে পারে।

সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টির নাম ‘মুরাসু’। তামিল ভাষায় শব্দটির অর্থ ঢোল। নামটি প্রস্তাব করেছে ভারত। আইএমডির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঝড়টির বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার হতে পারে। দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে।

অন্ধ্র, তামিলনাড়ু ও ওড়িশায় বৃষ্টির শঙ্কা

সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ভারতের কয়েকটি রাজ্যে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। আইএমডির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২ নভেম্বর অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং পুদুচেরির ইয়ানামে বিচ্ছিন্নভাবে অতি ভারি বৃষ্টি হতে পারে। পরদিন এসব এলাকায় ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

এ ছাড়া অন্ধ্র প্রদেশের রায়ালসীমা অঞ্চলে ২ ও ৩ নভেম্বর অতি ভারি বৃষ্টি হতে পারে। ওড়িশার উপকূলীয় এলাকাগুলোতে ৩ ও ৪ নভেম্বর ভারি বৃষ্টির সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।

উপকূলে ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস

আইএমডি জানিয়েছে, সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ১ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকে অন্ধ্র প্রদেশ, উত্তর তামিলনাড়ু ও পুদুচেরি উপকূলে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।

২ নভেম্বর বিকেল নাগাদ অন্ধ্র উপকূলে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬৫ থেকে ৭৫ কিলোমিটার হতে পারে। দমকা হাওয়ার গতি উঠতে পারে ঘণ্টায় ৮৫ কিলোমিটার পর্যন্ত। পরে ২ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকে ৩ নভেম্বর সকাল পর্যন্ত বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়ার গতি ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

অন্যদিকে, দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলে ২ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকে ঝোড়ো হাওয়া শুরু হতে পারে। ৩ নভেম্বর ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার থাকতে পারে। দমকা হাওয়ার গতি ঘণ্টায় ৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে।

আইএমডির পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ৪ নভেম্বর থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। ওই দিন সকালে বাতাসের গতিবেগ কমে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটারে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

এর আগে গত ২৮ অক্টোবর ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ ও ওড়িশা উপকূলে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। ওই ঝড়ের বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৫০ কিলোমিটার। আইএমডির ধারণা, নতুন সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টি অর্ণবের তুলনায় কম শক্তিশালী হতে পারে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad