সুস্থ থাকার জন্য প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি। তবে শুধু সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমালেই শরীর সুস্থ থাকবে, এমন নয়। ঘুমের সময় এবং ঘুম থেকে ওঠার ক্ষেত্রে নিয়মিত অভ্যাস বজায় রাখাও স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন ঘুমানোর ও জেগে ওঠার সময়ের বড় ধরনের পরিবর্তন শরীরের স্বাভাবিক জৈবিক ছন্দে প্রভাব ফেলতে পারে।
সাধারণভাবে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। তবে ঘুমের সময়ের পাশাপাশি এর ধারাবাহিকতার দিকেও নজর দেওয়া উচিত। ঘুমের অনিয়ম শরীরের অভ্যন্তরীণ জৈবিক ঘড়ির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করতে পারে। এই জৈবিক ঘড়ি হরমোন নিঃসরণ, বিপাকীয় কার্যক্রম ও কোষের পুনর্গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত।
রিব্যালান্স হেলথের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাস্টিন হাইয়ের মতে, শরীর একটি নির্ভরযোগ্য দৈনন্দিন রুটিন অনুসরণ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। তাই প্রতিদিন কাছাকাছি সময়ে ঘুমানো ও জেগে ওঠার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। তবে এ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কঠোর হওয়ার দরকার নেই; বরং দীর্ঘদিন ধরে বজায় রাখা সম্ভব, এমন সময়সূচি অনুসরণ করাই ভালো।
ঘুমের রুটিন ঠিক রাখার চার উপায়
১. প্রতিদিন একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠা
ঘুমের অভ্যাস গড়ে তুলতে সকালে ওঠার একটি নির্দিষ্ট সময় ঠিক করা জরুরি। প্রতিদিন কাছাকাছি সময়ে ঘুম থেকে উঠলে শরীর ধীরে ধীরে নির্দিষ্ট ছন্দে অভ্যস্ত হয়। সকালে ঘুম থেকে উঠে কিছুক্ষণ প্রাকৃতিক আলোয় থাকাও জৈবিক ঘড়ির স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করতে পারে।
২. ঘুমের আগে শরীর ও মনকে প্রস্তুত করা
বিছানায় যাওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে দিনের ব্যস্ততা থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া ভালো। এ সময় ঘরের আলো কমিয়ে বই পড়া, হালকা গান শোনা কিংবা উষ্ণ পানিতে গোসলের মতো অভ্যাস শরীর ও মনকে বিশ্রামের জন্য প্রস্তুত করতে পারে।
৩. ক্যাফেইন ও স্ক্রিনের ব্যবহার সীমিত করা
বিকেল বা সন্ধ্যায় কফি কিংবা ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় গ্রহণ করলে রাতে ঘুম আসতে দেরি হতে পারে। এ ছাড়া ঘুমানোর আগে দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোন বা অন্যান্য ডিজিটাল পর্দা ব্যবহারও ঘুমের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তাই দিনের শেষভাগে ক্যাফেইন গ্রহণ এড়িয়ে চলা এবং বিছানায় যাওয়ার আগে ফোন ব্যবহার কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
৪. ঘুম নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা না করা
কোনো দিন নির্ধারিত সময়ে ঘুমাতে না পারলে অযথা দুশ্চিন্তা করা উচিত নয়। এক রাতের ব্যতিক্রমে পুরো রুটিন নষ্ট হয়ে যায় না। বরং পর্যাপ্ত বিশ্রামের চেষ্টা করে পরদিন থেকে ধীরে ধীরে আগের সময়সূচিতে ফিরে আসা ভালো।
ঘুমের ধারাবাহিকতাও গুরুত্বপূর্ণ
প্রতিদিনের কাজের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাস্তবসম্মত ঘুমের রুটিন তৈরি করা জরুরি। কর্মদিবস ও ছুটির দিনেও ঘুমানোর এবং ঘুম থেকে ওঠার সময়ে বড় ধরনের পার্থক্য না রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে নিয়মিত সময়সূচি বজায় রাখতে গিয়ে ঘুমের প্রয়োজনীয় সময় কমিয়ে ফেলা উচিত নয়।

মোঃ রায়হান চৌধুরী,(নিজস্ব প্রতিবেদক)