অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী সংক্রমণ ঠেকাতে এআইয়ের নকশায় তৈরি ভাইরাস প্রয়োগ মানুষের শরীরে

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৩ বিকাল
  • ৩৫৩৪ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন সম্ভাবনা, তবে কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিয়ে রয়ে গেছে প্রশ্ন

অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। প্রথমবারের মতো এআই প্রযুক্তির সাহায্যে নকশা করা একটি ভাইরাস পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে মানুষের শরীরে। যুক্তরাষ্ট্রের এক গুরুতর সংক্রমণে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসায় এই ভাইরাস ব্যবহার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটির দাবি, চিকিৎসার উদ্দেশ্যে এআই দিয়ে নকশা করা ভাইরাস মানুষের শরীরে প্রয়োগের ঘটনা এটিই প্রথম।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট-এর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক এআই স্টার্টআপ র‍্যাডিক্যাল নিউমেরিকস তাদের নিজস্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক মডেল ‘ওমনি-১’ ব্যবহার করে ভাইরাসটি নকশা করেছে। এটি ব্যাকটেরিওফাজ বা ফাজ নামের বিশেষ ধরনের ভাইরাস। এসব ভাইরাস মানুষের কোষে আক্রমণ না করে নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রমিত ও ধ্বংস করতে সক্ষম।

যেভাবে তৈরি করা হয়েছে ভাইরাস

প্রচলিত ফাজ থেরাপিতে সাধারণত সংক্রমণের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করতে পারে—এমন প্রাকৃতিক ভাইরাস খুঁজে বের করা হয়। তবে র‍্যাডিক্যাল নিউমেরিকসের এআই মডেল অনুসরণ করেছে ভিন্ন পদ্ধতি। নতুন ভাইরাস খোঁজার পরিবর্তে আগে থেকেই বিদ্যমান একটি ভাইরাসের নির্দিষ্ট অংশ পুনরায় নকশা করেছে মডেলটি।

এর লক্ষ্য হলো, সংক্রমণ ঘটানো নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়াকে আরও নিখুঁতভাবে শনাক্ত ও ধ্বংস করতে সক্ষম ভাইরাস তৈরি করা।

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে রোগীর সংক্রমণের ধরন বিশ্লেষণ করে কয়েক দিনের মধ্যেই উপযোগী ভাইরাস তৈরি করা সম্ভব হতে পারে। এতে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী জটিল সংক্রমণের চিকিৎসায় বিকল্প পদ্ধতি উদ্ভাবনের সময় কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পরীক্ষাগারে ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসের দাবি

জানা গেছে, প্রচলিত চিকিৎসায় সুফল না পাওয়ায় বিশেষ পরিস্থিতিতে পরীক্ষামূলক চিকিৎসার সুযোগ রয়েছে—এমন একটি কর্মসূচির আওতায় রোগীর শরীরে ভাইরাসটি প্রয়োগ করা হয়।

এর আগে রোগীর শরীর থেকে সংগ্রহ করা ব্যাকটেরিয়ার নমুনায় ভাইরাসটির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়েছিল। র‍্যাডিক্যাল নিউমেরিকসের দাবি, পরীক্ষাগারে ভাইরাসের মিশ্রণটি নমুনায় থাকা অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে সক্ষম হয়।

তবে রোগীর শরীরে ভাইরাস প্রয়োগের পর শারীরিক অবস্থার কী পরিবর্তন হয়েছে, সংক্রমণ পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে কি না কিংবা রোগীর সুনির্দিষ্ট রোগনির্ণয় কী ছিল—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি প্রতিষ্ঠানটি। এমনকি চিকিৎসার ফলাফল এখনো কোনো বৈজ্ঞানিক সাময়িকীতেও প্রকাশিত হয়নি।

এআই দিয়ে ভাইরাস তৈরিতে নিরাপত্তা উদ্বেগ

চিকিৎসাবিজ্ঞানে এআইয়ের ব্যবহার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করলেও এর অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও আর্ক ইনস্টিটিউটের গবেষকেরা এআই ব্যবহার করে নতুন ধরনের ভাইরাস নকশার গবেষণার তথ্য প্রকাশ করেন।

গবেষণায় এআই দিয়ে নকশা করা প্রায় ৩০০টি ভাইরাল জিনোম সংশ্লেষণ ও পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ১৬টি কার্যকর ভাইরাস তৈরি করা সম্ভব হয়েছিল। পরীক্ষাগারে এসব ভাইরাস ই. কোলাই ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে সক্ষম হয়। তবে ওই গবেষণায় কোনো মানুষের শরীরে ভাইরাস প্রয়োগ করা হয়নি।

গবেষকদের মতে, এআইয়ের সাহায্যে নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়াকে লক্ষ্য করে ভাইরাস তৈরির সক্ষমতা অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী সংক্রমণের চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আনতে পারে। তবে একই প্রযুক্তির অপব্যবহারে মানুষ ও প্রাণীর জন্য ক্ষতিকর ভাইরাস তৈরির ঝুঁকিও রয়েছে। এ কারণে স্ট্যানফোর্ডের গবেষকেরা মানুষ বা প্রাণীকে আক্রমণ করতে পারে—এমন ভাইরাসের পরিবর্তে ব্যাকটেরিয়াকে লক্ষ্যবস্তু করে ভাইরাস তৈরিতে গুরুত্ব দিয়েছেন।

সব মিলিয়ে, এআইনির্ভর ভাইরাস নকশা চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে মানুষের চিকিৎসায় এর কার্যকারিতা, দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা, ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা এবং কঠোর জীববৈজ্ঞানিক নিরাপত্তাব্যবস্থা প্রয়োজন।

তথ্যসূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট (যুক্তরাজ্য); আজকের পত্রিকা, ৩০ অক্টোবর ২০২৬।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad