সেন্টমার্টিনে জাহাজভাড়া ৭০০ টাকা বেশি, জনপ্রতি ১০০ টাকা পরিবেশ ফি

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৩ দুপুর
  • ২১৬০ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
দেশের একমাত্র প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপ সেন্টমার্টিন ভ্রমণে এবার পর্যটকদের বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় পর্যটকবাহী জাহাজের ভাড়া ৭০০ টাকা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি জনপ্রতি ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি আরোপ করা হয়েছে। জাহাজভাড়া বৃদ্ধি ও নতুন ফি আদায় নিয়ে পর্যটকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। ভাড়া নির্ধারণের যৌক্তিকতা এবং পরিবেশ ফির অর্থ ব্যবহারের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

পর্যটকদের অভিযোগ, অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে সেন্টমার্টিন ভ্রমণের ব্যয় বেড়ে গেছে। অন্যদিকে পরিবেশ সংরক্ষণের নামে আদায় করা অর্থ কোথায় এবং কীভাবে ব্যয় করা হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য চান তারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ভাড়া বৃদ্ধি ও পরিবেশ ফি নিয়ে সমালোচনা চলছে। কেউ কেউ জাহাজ পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেটের অভিযোগ তুলেছেন। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

জাহাজ পরিচালনাকারীদের দাবি, পরিচালন ব্যয় বিবেচনা না করে শুধু ভাড়ার অঙ্ক দেখে সমালোচনা করা ঠিক নয়। পর্যটন ব্যবসায়ী নেতা আকতার নুর বলেন, জাহাজের ডকিং, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, লাইসেন্স, অনুমোদন ও রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন খাতে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়।

গণমাধ্যমকর্মী শামসুল আলম শ্রাবণ পরিবেশ ফি নিয়ে সমালোচনা করে বলেন, ‘চাঁদাবাজির নতুন নাম পরিবেশ সংরক্ষণ ফি। সেন্টমার্টিনে যেতে হলে পর্যটককে জনপ্রতি ১০০ টাকা দিতে হবে। কী তামাশা শুরু করল এরা?’

ছাত্রদল নেতা সাহাব উদ্দিন বলেন, গত বছর জাহাজভাড়া ছিল ৩ হাজার ৫০০ টাকা। এবার তা বাড়িয়ে ৪ হাজার ২০০ টাকা করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, জাহাজ পরিচালনাকারীদের সিন্ডিকেট কক্সবাজারের পর্যটনশিল্পের ক্ষতির অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে।

ব্যয় বৃদ্ধির যুক্তি জাহাজ মালিকদের

ভাড়া বৃদ্ধির সমালোচনার জবাবে পর্যটন ব্যবসায়ী নেতা আকতার নুর বলেন, জাহাজ পরিচালনায় ডকিং বাবদ ১০ লাখ নয়, কোটি টাকার বেশি ব্যয় হয়। এ ছাড়া ১২ মাসের পরিচালন ব্যয় ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাবদ প্রায় চার কোটি টাকা খরচ করতে হয়।

তিনি জানান, ডকিং ও বেতনের বাইরেও জাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ, অফিস পরিচালনা, এজেন্ট কমিশন, ভয়েজ লাইসেন্স, বিআইডব্লিউটিএর নৌপথ সংরক্ষণ ফি, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের (এমএমডি) সার্ভে সনদ এবং জেলা প্রশাসনের অনুমতিসহ বিভিন্ন খাতে অর্থ ব্যয় করতে হয়।

আকতার নুরের দাবি, এসব খরচ যোগ করলে জাহাজ পরিচালনায় বিপুল অর্থের প্রয়োজন হয়। তবে ভাড়া বৃদ্ধির যৌক্তিকতা যাচাইয়ে জাহাজ পরিচালনার বিস্তারিত আর্থিক হিসাব, আসনসংখ্যা, যাত্রী পরিবহনের পরিমাণ ও মৌসুমভিত্তিক আয়-ব্যয়ের তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

পরিবেশ ফি নিয়ে স্বচ্ছতার দাবি

সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে দ্বিমত নেই। তবে জনপ্রতি ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি আদায়ের সরকারি ভিত্তি, অর্থ নির্ধারণের পদ্ধতি এবং সংগৃহীত অর্থের ব্যবহার নিয়ে স্বচ্ছতা দাবি করেছেন পর্যটক ও সমালোচকরা।

তাদের বক্তব্য, পরিবেশ সংরক্ষণের নামে অর্থ আদায় করা হলে সেই অর্থ কোন খাতে ব্যয় হচ্ছে, কী ধরনের সংরক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং তাতে কী সুফল পাওয়া যাচ্ছে, তা জনসাধারণকে জানাতে হবে। পাশাপাশি অর্থ ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সেন্টমার্টিনের পরিবেশ রক্ষা এবং পর্যটনশিল্পের বিকাশ—দুটিই গুরুত্বপূর্ণ। তাই জাহাজ পরিচালনাকারীদের প্রকৃত ব্যয় যাচাইয়ের পাশাপাশি ভাড়া ও পরিবেশ ফি নির্ধারণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

জাহাজ চলাচল শুরু হতে পারে ৪ বা ৫ নভেম্বর

এদিকে ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিন পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত দিন থেকে জাহাজ চলাচল শুরু হচ্ছে না। প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র ও আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। ফলে দ্বীপ ভ্রমণের প্রস্তুতি নেওয়া পর্যটকদের জাহাজ চলাচল শুরুর অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নৌপরিবহন অধিদপ্তর, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং জেলা প্রশাসনের প্রয়োজনীয় অনুমোদন না মেলায় জাহাজ চলাচল শুরুতে বিলম্ব হচ্ছে।

তবে প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া গেলে আগামী ৪ অথবা ৫ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিন নৌপথে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গতকাল সকালে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে পর্যটন ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণবিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে এসব তথ্য জানা যায়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad