বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পান্না আক্তারের স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।
গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবর সকাল ৭টার দিকে উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইনানী ছোট খাল ব্রিজসংলগ্ন একটি বাড়িতে গভীর নলকূপ স্থাপনের কাজ চলছিল। এ সময় মাটির প্রায় এক হাজার ফুট গভীরে পাইপ প্রবেশ করানোর সময় ভূগর্ভ থেকে গ্যাস নির্গত হয়ে আগুনের সূত্রপাত হয়।
ঘটনার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ফায়ার সার্ভিসের কয়েকটি ইউনিট কাজ শুরু করে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ভূগর্ভে প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত থাকার সম্ভাবনা দেখা দেওয়ায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) একটি কারিগরি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ দেয়।
নিরাপত্তা জোন ঘোষণা
গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আগুনের উৎসস্থল ও সংলগ্ন এলাকাকে বিভিন্ন নিরাপত্তা জোনে ভাগ করে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে আগুনের উৎসস্থল থেকে আনুমানিক ২০০ মিটার এলাকার মধ্যে সাধারণ মানুষের প্রবেশ ও অবস্থান নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে গ্যাস নির্গমনের স্থান ও আশপাশে আগুন জ্বালানো, ধূমপান, দিয়াশলাই বা লাইটার ব্যবহারসহ অগ্নিস্ফুলিঙ্গ সৃষ্টি করতে পারে—এমন সব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষকে ঘটনাস্থল থেকে দূরে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতেও বলা হয়েছে।
প্রশাসনের নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার জানান, আগুনের উৎসস্থল থেকে ২০০ মিটার এলাকার মধ্যে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সাধারণ মানুষের প্রবেশ ঠেকানো এবং সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতেই ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। জননিরাপত্তায় প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক