সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার বেতুয়া গ্রামের বাসিন্দা শামীম আকন্দকে ঘিরে নানা অভিযোগ উঠেছে। তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার, থানা পুলিশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সূত্র ধরে তদবির-বাণিজ্য, হয়রানি এবং উন্নয়নকাজের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ করেছেন স্থানীয়দের কেউ কেউ। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে তাঁর পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
এলাকার সচেতন মহলের বক্তব্য, কোনো ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার দোহাই দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করলে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁদের মতে, কারও বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে মিথ্যা অভিযোগের মাধ্যমে কাউকে হয়রানি করা হচ্ছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা জরুরি। তবে এ বক্তব্য এলাকার সচেতন মহলের প্রতিনিধিদের নামসহ সরাসরি উদ্ধৃতি হিসেবে প্রকাশ করতে হলে তাঁদের প্রকৃত বক্তব্য ও সম্মতি নেওয়া প্রয়োজন।
শামীম আকন্দ বেতুয়া গ্রামের আলহাজ্ব জাব্বার আকন্দের ছেলে। আট ভাইয়ের মধ্যে তিনি পঞ্চম। পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে পড়াশোনা করলেও চাকরিজীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেননি বলে জানা গেছে। পেশায় তিনি মৎস্য খামারি। একসময় মৎস্য খামারে ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়লেও বাবা ও ভাইদের সহযোগিতায় ঘুরে দাঁড়ান। পরে গ্রাম ছেড়ে সলঙ্গায় বসবাস শুরু করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সলঙ্গায় বসবাসকালে শামীম আকন্দের ঘনিষ্ঠতা হয় তৎকালীন সলঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম রতনের সঙ্গে। এরপর তিনি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ধুবিল ইউনিয়নের চুনিয়াখাড়া গ্রামে তাঁর একটি মৎস্য খামার রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধিদের ওই খামারে নিয়ে যেতেন তিনি। সেখানে মাদকসহ অনৈতিক কর্মকাণ্ডের আয়োজন করা হতো বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন সলঙ্গা থানার তদন্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন আহমদের সঙ্গে জাহিদুল ইসলাম রতনের মাধ্যমে শামীম আকন্দের পরিচয় হয়। পরবর্তী সময়ে সরকার পরিবর্তনের পর রাজনৈতিক অবস্থান পাল্টে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর চেষ্টা করেন তিনি—এমন দাবি স্থানীয় কয়েকজনের।
এরই মধ্যে হুমায়ুন আহমদ সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে যোগদান করলে শামীম আকন্দ তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে পরিচিতি পান বলে অভিযোগ রয়েছে। এ পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে তদবির-বাণিজ্য চালানোর অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় ও থানা পুলিশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার প্রভাব দেখিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একাধিক নেতাকর্মীকে হয়রানি ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন শামীম আকন্দ। এমনকি নিজের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও তাঁর বিরোধ ও অসদাচরণের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বিএনপির নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন উন্নয়নকাজের সূত্র ধরে চাঁদাবাজির অভিযোগও করেছেন স্থানীয়দের কেউ কেউ।
এলাকার সচেতন মহল মনে করছে, এসব অভিযোগের প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। অভিযোগের পেছনে কোনো প্রমাণ থাকলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয় বা ব্যক্তিগত প্রভাব যেন সাধারণ মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন করার হাতিয়ার হয়ে না ওঠে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি প্রয়োজন।
কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা থানা পুলিশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে প্রভাবিত বা হয়রানি করার অভিযোগ উঠলে তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে জানান সচেত মহল, তাঁদের মতে, শামীম আকন্দের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা উচিত। অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার দাবিও জানান তারা। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত বিরোধ বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে যেন কেউ মিথ্যা অভিযোগের শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি। তাঁরা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, শামীম আকন্দ তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “বিগত সরকারের আমলে সবার সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক ছিল। তবে আমি কোনো অপরাধমূলক কাজ করিনি।
তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য তথ্য, সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

শাহিন রেজা,মাল্টিমিডিয়া ইনচার্জ