ঘুমের মধ্যেও হতে পারে স্ট্রোক, লক্ষণ চিনে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৬ দুপুর
  • ২৮৯০ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
সুস্থ অবস্থায় ঘুমাতে যাওয়ার পর সকালে ঘুম থেকে উঠে কথা জড়িয়ে যাওয়া, শরীরের এক পাশ দুর্বল হয়ে পড়া কিংবা দৃষ্টিশক্তিতে সমস্যা দেখা দিতে পারে স্ট্রোকের কারণে। অনেক ক্ষেত্রে ঘুমের মধ্যেই স্ট্রোক হলেও রোগী তা বুঝতে পারেন না। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ ধরনের ঘটনাকে ‘ওয়েক-আপ স্ট্রোক’ বলা হয়। এ অবস্থায় লক্ষণ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জরুরি চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দেওয়ার পর দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানো গেলে মস্তিষ্কের ক্ষতি কমানো এবং রোগীর সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা বাড়ানো সম্ভব।

কেন হয় ঘুমের মধ্যে স্ট্রোক

মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে ইশেমিক স্ট্রোক হয়। অন্যদিকে, মস্তিষ্কের কোনো রক্তনালি ফেটে রক্তক্ষরণ হলে তাকে হেমোরেজিক স্ট্রোক বলা হয়। ঘুমের মধ্যে স্ট্রোক হলে সাধারণত ঘুম ভাঙার পর এর লক্ষণ প্রকাশ পায়।

এ ধরনের স্ট্রোকের ক্ষেত্রে রোগী সর্বশেষ কখন স্বাভাবিক অবস্থায় ছিলেন, তা জানা গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে ‘লাস্ট নোন ওয়েল টাইম’ বলা হয়। স্ট্রোকের সঠিক সময় জানা না গেলেও উন্নত মস্তিষ্কের ইমেজিং পরীক্ষা ও ক্লিনিক্যাল মূল্যায়নের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু রোগীর জন্য বিশেষ চিকিৎসার সুযোগ রয়েছে। তাই স্ট্রোকের সময় অজানা থাকলেই চিকিৎসার সুযোগ শেষ হয়ে যায় না।

যেসব লক্ষণ দেখলে সতর্ক হতে হবে

স্ট্রোকের লক্ষণ দ্রুত শনাক্ত করতে ‘বিইএফএএসটি’ (BEFAST) পদ্ধতি অনুসরণ করা যায়। এর মাধ্যমে ছয় ধরনের লক্ষণ চিহ্নিত করা সম্ভব।

ভারসাম্য (Balance): হঠাৎ মাথা ঘোরা, হাঁটতে সমস্যা বা শরীরের ভারসাম্য হারানো।

চোখ (Eyes): হঠাৎ ঝাপসা দেখা, দ্বৈত দৃষ্টি বা দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া।

মুখ (Face): হাসার সময় মুখের এক পাশ বেঁকে যাওয়া বা ঝুলে পড়া।

হাত (Arms): এক হাত দুর্বল হয়ে যাওয়া বা ওপরে তুলতে না পারা।

কথা (Speech): কথা জড়িয়ে যাওয়া কিংবা অন্যের কথা বুঝতে অসুবিধা হওয়া।

সময় (Time): এসব লক্ষণের যেকোনো একটি দেখা দিলে অবিলম্বে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।

এ ছাড়া হঠাৎ শরীরের কোনো অংশ অবশ হয়ে যাওয়া, বিভ্রান্তি কিংবা অস্বাভাবিক তীব্র মাথাব্যথাও স্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে। সাময়িকভাবে লক্ষণ দেখা দিয়ে সেরে গেলেও সেটিকে অবহেলা করা যাবে না। এটি ক্ষণস্থায়ী ইস্কেমিক অ্যাটাক (টিআইএ) বা মিনি স্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে, যা পরবর্তী স্ট্রোকের ঝুঁকির সংকেত।

যেসব কারণে বাড়ে স্ট্রোকের ঝুঁকি

অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ স্ট্রোকের অন্যতম প্রধান ঝুঁকির কারণ। এ ছাড়া ডায়াবেটিস, রক্তে উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরল, ধূমপান এবং অনিয়মিত হৃদস্পন্দন স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া—ঘুমের মধ্যে বারবার শ্বাস বন্ধ হয়ে আসার সমস্যা—হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। এ ছাড়া সকালে রক্তচাপের স্বাভাবিক ওঠানামাও কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। দীর্ঘদিনের অনিয়মিত ঘুম ও ঘুমের নিম্নমান সামগ্রিক হৃদ্‌স্বাস্থ্য ও বিপাকীয় কার্যক্রমের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

চিকিৎসায় দেরি নয়

স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। ইশেমিক স্ট্রোকের ক্ষেত্রে উপযুক্ত রোগীকে রক্ত জমাট গলানোর ওষুধ বা থ্রম্বোলাইসিস দেওয়া যেতে পারে। নির্দিষ্ট রোগীর ক্ষেত্রে ক্যাথেটারের সাহায্যে রক্তনালির জমাট অপসারণের চিকিৎসা—মেকানিক্যাল থ্রম্বেক্টমিও—কার্যকর হতে পারে।

তবে এসব চিকিৎসা দেওয়ার উপযোগিতা নির্ভর করে স্ট্রোকের ধরন, রোগীর শারীরিক অবস্থা এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলের ওপর। বিশেষ ইমেজিং পরীক্ষার মাধ্যমে কিছু রোগীকে চিকিৎসার জন্য নির্বাচন করা সম্ভব।

চিকিৎসার পর রোগীর শারীরিক সক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে ফিজিওথেরাপি, কথা বলার সমস্যা কাটাতে স্পিচ থেরাপি এবং দৈনন্দিন কাজের সক্ষমতা বাড়াতে অকুপেশনাল থেরাপি প্রয়োজন হতে পারে।

ঝুঁকি কমাতে যা করবেন

স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা ও নিয়ন্ত্রণ, ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনা, সুষম খাবার গ্রহণ, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং ধূমপান বর্জন জরুরি। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

ঘুমের মধ্যে অতিরিক্ত নাক ডাকা, শ্বাস বন্ধ হয়ে আসা বা শ্বাসকষ্টের সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে ঘুম থেকে ওঠার পর কথা বলা, হাঁটাচলা, শরীরের ভারসাম্য কিংবা দৃষ্টিশক্তিতে হঠাৎ পরিবর্তন দেখা দিলে অপেক্ষা করা যাবে না। লক্ষণ নিজে থেকে কমে গেলেও দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।





কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad