মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর মগবাজারের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মরিয়ম বেগম।
দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন মরিয়ম বেগম
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে কিডনির অসুস্থতা ও বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন মরিয়ম বেগম। গত ১৪ অক্টোবর দিবাগত রাতে রাজধানীর গুলশানের নিকেতনে নিজের বাসায় স্ট্রোক করেন তিনি। পরে রাত পৌনে ২টার দিকে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এরপর থেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। মঙ্গলবার রাতে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। এর মধ্যেই রাত দেড়টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দূরত্ব
একসময় চলচ্চিত্র অঙ্গনে পপির সঙ্গে প্রায়ই দেখা যেত তাঁর মা মরিয়ম বেগমকে। তবে গত বছর গণমাধ্যমে মা-মেয়ের সম্পর্কের টানাপোড়েনের খবর প্রকাশিত হলে বিষয়টি আলোচনায় আসে।
সে সময় মায়ের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছিলেন পপি। অভিনেত্রীর দাবি ছিল, প্রায় ৩০ বছর ধরে নিজের পরিশ্রমে উপার্জিত অর্থ তাঁর মা ও বোন আত্মসাৎ করেছেন।
পপির ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যদের মানুষ করা এবং মা-বাবা ও স্বজনদের ভালো রাখার জন্য নিজের উপার্জনের বড় অংশ ব্যয় করেছেন তিনি। কিন্তু পরে জানতে পারেন, তাঁর সঞ্চিত অর্থ অন্যের ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মা-বাবার কাছে জবাব চেয়েও পাননি বলে অভিযোগ করেছিলেন পপি। উল্টো পরিবারের সদস্যদের কাছেই নিজেকে শত্রুতে পরিণত হতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অভিমান আর টানাপোড়েনের অধ্যায়ের সমাপ্তি
মরিয়ম বেগমের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে পপির জীবনের এক আবেগঘন ও জটিল অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। দীর্ঘদিনের পারিবারিক দূরত্ব, অর্থনৈতিক বিরোধ এবং অভিমান মা-মেয়ের সম্পর্ককে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছিল।
মায়ের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে পপি তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তির জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।

প্রথম দর্পণ,বিনোদন ডেক্স