প্রত্যাহার হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন—সাতকানিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এস এম মাহবুবুল ইসলাম এবং কনস্টেবল ফয়েজ আহমেদ ও গাজী মো. মহসিন।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম পিপিএম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে প্রশাসনিক কারণে তাঁদের থানা থেকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়। সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল আলীম ওই রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
যেভাবে থামানো হয় ট্রাকপ্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে লোহাগাড়া উপজেলার পুটিবিলা ইউনিয়নের এম চর হাটসংলগ্ন মাইরগ্গ্যারচর ফকিরহাট এলাকার একটি নির্জন সড়কে মোটরসাইকেল দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে নীল রঙের একটি মিনিট্রাক থামানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের কথিত সোর্স রবিন ও মোমিনের সহযোগিতায় ট্রাকটি সাতকানিয়ার কেরানীহাট এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কক্সবাজারের চকরিয়া থেকে বান্দরবানের লামা হয়ে ৩০ হাজার পিস ইয়াবা নিয়ে ট্রাকটি চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিল। পুটিবিলা এলাকায় পৌঁছালে সেটির গতিরোধ করা হয়। পরে চালককে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ট্রাকটি বিভিন্ন স্থানে ঘোরানোর পর কেরানীহাট রেলক্রসিংসংলগ্ন একটি এলপিজি পাম্পের পাশে নেওয়া হয়। সেখানে তল্লাশির নামে চালকের আসনের নিচে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা ইয়াবা সরিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
চালকের অভিযোগ, বিচ্ছিন্ন করা হয় সিসিটিভিট্রাকচালক নাছিরের অভিযোগ, তাঁকে হাতকড়া পরিয়ে ট্রাক থেকে নামানো হয়। পরে একটি অটোরিকশায় আটকে রেখে অন্যরা ট্রাকে তল্লাশি চালান। এ সময় তিনটি পোটলায় রাখা ৩০ হাজার পিস ইয়াবা নিয়ে যাওয়া হয়।
নাছিরের দাবি, ঘটনার সময় ট্রাকের সিসিটিভি ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। পরে ক্যামেরার মেমোরি কার্ডও ফরম্যাট করে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর তাঁদের প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য, তদন্তের অগ্রগতি কিংবা ইয়াবা উদ্ধারের বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক