রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার জন্য শুধু অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার বা ব্যায়ামের অভাব দায়ী নয়। পারিবারিক হাইপারকোলেস্টেরোলেমিয়া একটি বংশগত সমস্যা, যার কারণে রক্তে এলডিএল বা ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে।
সময়মতো রোগটি শনাক্ত ও চিকিৎসা করা না হলে অল্প বয়সেই হৃদ্রোগ ও রক্তনালিতে জটিলতার ঝুঁকি বাড়ে। পরিবারে এ রোগের ইতিহাস থাকলে কোলেস্টেরলের মাত্রা পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
২. হৃৎপিণ্ডের পেশির রোগজিনগত পরিবর্তনের কারণে হৃৎপিণ্ডের পেশির গঠন ও কার্যক্ষমতায় সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ থেকে কার্ডিওমায়োপ্যাথি নামের রোগ হতে পারে। এতে হৃৎপিণ্ডের স্বাভাবিকভাবে রক্ত পাম্প করার ক্ষমতা ব্যাহত হয়।
কিছু ক্ষেত্রে রোগটি দীর্ঘদিন উপসর্গ ছাড়াই থাকতে পারে। পরে শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক ক্লান্তি কিংবা শারীরিক পরিশ্রমে অসুবিধা দেখা দিতে পারে। পরিবারে এ ধরনের রোগের ইতিহাস থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো উচিত।
৩. অনিয়মিত হৃৎস্পন্দনপ্রাপ্তবয়স্ক মানুষের বিশ্রামকালীন হৃৎস্পন্দন সাধারণত মিনিটে ৬০ থেকে ১০০ বার থাকে। হৃৎস্পন্দনের গতি বা ছন্দে অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে তাকে অ্যারিদমিয়া বলা হয়।
এ সমস্যার লক্ষণ হিসেবে বুক ধড়ফড়, মাথা ঘোরা কিংবা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে। কিছু অ্যারিদমিয়া বংশগত কারণে হলেও সব ক্ষেত্রে এর পেছনে জিনগত সমস্যা থাকে না। উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
৪. হৃৎপিণ্ডের জন্মগত ত্রুটিজন্মগত হৃদ্রোগের ক্ষেত্রে হৃৎপিণ্ডের গঠন কিংবা রক্ত চলাচলের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ত্রুটি থাকতে পারে। যেমন, হৃৎপিণ্ডের বিভিন্ন প্রকোষ্ঠের মধ্যবর্তী দেয়ালে ছিদ্র থাকা বা রক্ত সঞ্চালনে বাধা সৃষ্টি হওয়া।
ভ্রূণের বিকাশের সময় এসব ত্রুটি তৈরি হতে পারে। কিছু সমস্যা জন্মের পরপরই শনাক্ত হয়, আবার কিছু ক্ষেত্রে শৈশব বা পরবর্তী বয়সে লক্ষণ প্রকাশ পায়। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ।
৫. বংশগত ও জিনগত রোগপরিবারে নির্দিষ্ট কিছু জিনগত রোগের ইতিহাস থাকলে হৃৎপিণ্ডের বিভিন্ন সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। কিছু ক্ষেত্রে মায়ের অটোইমিউন রোগও গর্ভস্থ শিশুর হৃৎপিণ্ডের বিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে সব জিনগত বা অটোইমিউন রোগের কারণে হৃদ্যন্ত্রের সমস্যা হয় না। পরিবারে বংশগত হৃদ্রোগের ইতিহাস থাকলে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ জিনগত পরীক্ষা বা অন্যান্য স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুপারিশ করতে পারেন।
যেসব লক্ষণ অবহেলা করা যাবে নাস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করলেও সব ধরনের হৃদ্রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে পরিবারে অল্প বয়সে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস থাকলে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
বুক ধড়ফড়, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, বুকে ব্যথা কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বুকে তীব্র ব্যথা, হঠাৎ শ্বাসকষ্ট বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো জরুরি লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।
ঝুঁকি কমাতে করণীয়হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতে সুষম খাবার গ্রহণ, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, ধূমপান পরিহার এবং রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি পরিবারে হৃদ্রোগের ইতিহাস থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো উচিত।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক