মালচিং পদ্ধতিতে করলা চাষ, এক বিঘায় বিক্রির আশা ৩ লাখ টাকা

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৯ দুপুর
  • ৩১৭৬ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় মালচিং পদ্ধতি ও ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে করলা চাষে সাফল্য পেয়েছেন তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা মাহমুদ আল-ইমরান (৪৫)। আধুনিক এ পদ্ধতিতে আগাছা নিয়ন্ত্রণ, মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখা এবং রোগবালাই মোকাবিলায় সুবিধা পাওয়ায় কমেছে উৎপাদন খরচ। এক বিঘা জমিতে ৪৮ থেকে ৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে ইতোমধ্যে পাঁচ দফায় ১ হাজার ৯৪ কেজি করলা তুলেছেন তিনি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ওই জমি থেকে প্রায় তিন লাখ টাকার করলা বিক্রির আশা করছেন এ উদ্যোক্তা।

ভেড়ামারা উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের গোরস্তানপাড়া এলাকার বাসিন্দা মাহমুদ আল-ইমরান। তাঁর বাবা সফর উদ্দিন। পরিবেশবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতিতে করলা চাষ করে তিনি এলাকায় অন্য কৃষকদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি করেছেন।

কমছে পরিচর্যা ও উৎপাদন খরচ

উদ্যোক্তা মাহমুদ আল-ইমরান জানান, মালচিং পদ্ধতিতে জমির ওপর প্লাস্টিক শিট বিছিয়ে চাষ করায় আগাছার বিস্তার কমে এবং মাটির আর্দ্রতা দীর্ঘ সময় বজায় থাকে। ফলে জমি পরিচর্যা, সেচ ও ক্ষতিকর কীটনাশকের ব্যবহারসংক্রান্ত ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হচ্ছে।

তিনি বলেন, এক বিঘা জমিতে ‘এগ্রো ওয়ান লিডার’ জাতের করলার চারা রোপণের ৪০ থেকে ৫০ দিনের মধ্যে ফল সংগ্রহ শুরু করেন। এ পদ্ধতিতে উৎপাদিত করলার মান ভালো হওয়ায় বাজারে চাহিদাও রয়েছে বলে জানান তিনি।

পাঁচ দফায় বিক্রি ৬৫ হাজার টাকার করলা

মাহমুদ আল-ইমরানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এক বিঘা জমিতে করলা চাষে তাঁর ব্যয় হয়েছে ৪৮ থেকে ৫০ হাজার টাকা। এ পর্যন্ত পাঁচ দফায় ১ হাজার ৯৪ কেজি করলা সংগ্রহ করেছেন। স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি ৬০ টাকা দরে করলা বিক্রি করে প্রায় ৬৫ হাজার টাকা পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে মৌসুমে ওই জমি থেকে প্রায় তিন লাখ টাকার করলা বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন এ কৃষি উদ্যোক্তা। তবে এটি তাঁর প্রত্যাশিত বিক্রির হিসাব; চূড়ান্ত উৎপাদন ও আয় নির্ভর করবে ফলন, বাজারদর ও আবহাওয়ার ওপর।

মালচিংয়ে দেখছেন নতুন সম্ভাবনা

ভেড়ামারার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, রোগবালাই ও শ্রমিকের বাড়তি খরচের কারণে কৃষকদের কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে মালচিংয়ের মতো আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। রামচন্দ্রপুর এলাকায় মাহমুদ আল-ইমরান প্রথম মালচিং ও ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে করলা চাষে সফল হয়েছেন বলে জানান তিনি।

ভেড়ামারা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত ফসলের ক্ষেত পরিদর্শন করছেন। কৃষকদের রোগবালাই প্রতিরোধ ও সুষম সার প্রয়োগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কম খরচে নিরাপদ সবজি উৎপাদনের সম্ভাবনা থাকায় এ পদ্ধতির প্রতি কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।

মালচিং ও ফেরোমন ফাঁদের ব্যবহার কৃষিতে উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং নিরাপদ সবজি উৎপাদনে সহায়ক হতে পারে। তবে এ পদ্ধতির সাফল্য নিশ্চিত করতে স্থানীয় মাটি, আবহাওয়া, ফসলের জাত ও বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুসরণ করা প্রয়োজন।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad