পাঁচ বছরে অর্ধেকও শেষ হয়নি কলিমাজানি সেতু, দুর্ভোগে দুই পাড়ের মানুষ

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৮ দুপুর
  • ৩১৪০ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নে কলিমাজানি নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুর কাজ পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি। প্রায় ৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য সেতুটির কাজ ২০২১ সালের জানুয়ারিতে শুরু হলেও মাঝপথে বারবার বন্ধ হয়ে যায়। এতে নদীর দুই পাড়ের বাসিন্দাদের দুর্ভোগ বাড়ছে। শিক্ষার্থী, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষকে এখনো খেয়া নৌকায় নদী পারাপার হতে হচ্ছে। কবে সেতুটি চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।দুই বছরের কাজ পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে কলিমাজানি নদীর ওপর সেতুটি নির্মাণে ৯ কোটি ৪৫ লাখ ১৮ হাজার ৬৮৮ টাকা ব্যয়ে দরপত্র আহ্বান করা হয়। কার্যাদেশ পেয়ে ‘মেসার্স দুর্গা এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড আব্দুস সালাম খান’ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০২১ সালের ৩ জানুয়ারি নির্মাণকাজ শুরু করে।

তবে কাজের অর্ধেক শেষ হওয়ার আগেই নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়। উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয়ের তাগাদায় মাঝেমধ্যে কাজ শুরু হলেও পরে আবার তা থমকে পড়ে। দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৫ সালে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অংশীদার মো. শাজাহানের তত্ত্বাবধানে পুনরায় কাজ শুরু হয়।

খেয়া নৌকাই ভরসা শিক্ষার্থী ও শ্রমিকদের

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গোড়াই সোহাগপুর থেকে পিচঢালা সড়কটি কলিমাজানি নদীর পাড় পর্যন্ত এসেছে। কিন্তু সেতুর নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় নদীর উত্তর পাড় থেকে খেয়া নৌকায় পার হয়ে কলিমাজানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পথহারা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত যাতায়াত করতে হয়।

একইভাবে দক্ষিণ পাড় থেকে নদী পার হয়ে গোড়াই ইউনিয়ন পরিষদ ও আশপাশের শিল্পকারখানায় যাতায়াত করেন শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ। এতে সময় ও যাতায়াতের ভোগান্তি বাড়ছে।

সেতুটি চালু হলে কলিমাজানি, নয়াপাড়া ও ভানুয়াবহ গ্রামের বাসিন্দাদের যোগাযোগব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে। কালিয়াকৈরের আড়াইগঞ্জ হয়ে ধামরাই, মানিকগঞ্জ ও ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

আর্থিক সংকটে কাজ বন্ধের দাবি ঠিকাদারপক্ষের

সেতুর নির্মাণকাজে যুক্ত সাব-কন্ট্রাক্টর মো. পারভেজ জানান, মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক কাজ পাওয়ায় এবং আর্থিক সংকটে পড়ায় নির্মাণকাজে ধীরগতি দেখা দিয়েছিল। তবে বর্তমানে কাজ চলছে এবং দ্রুত মূল কাজ শেষ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

দ্রুত কাজ শেষ করার আশ্বাস প্রকৌশলীর

মির্জাপুর উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে কাজ শেষ করতে বিলম্ব হয়েছে। এ বিষয়ে তাঁর কার্যালয় থেকে নিয়মিত চাপ দেওয়া হচ্ছে। দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করে স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা সেতুটির নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করে চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, সেতুটি চালু হলে শিক্ষার্থী, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগব্যবস্থাও গতিশীল হবে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad