আগাম সবজি চাষে ব্যস্ত ধুনটের কৃষক, লাভের আশায় বাড়ছে আবাদ

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০০ বিকাল
  • ৫৩৮২ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা ১,৬৮৬ হেক্টর; গত বছরের চেয়ে বেড়েছে ৩৫ হেক্টর

শীতের আগমন পুরোপুরি শুরু না হলেও বগুড়ার ধুনট উপজেলায় আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। বাজারে মৌসুমের শুরুতেই সবজি তুলে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়ার আশায় জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ ও পরিচর্যায় দিন কাটছে তাঁদের। অনুকূল আবহাওয়া ও বাজারদর অনুকূলে থাকলে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে লাভের মুখ দেখার প্রত্যাশা করছেন প্রান্তিক কৃষকেরা।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও জমি চাষ ও সার প্রয়োগ চলছে, কোথাও রোপণ করা হচ্ছে সবজির চারা। আগাম লাগানো গাছের পরিচর্যা, আগাছা পরিষ্কার এবং পোকামাকড় দমনের কাজেও ব্যস্ত কৃষকেরা। কিছু জমিতে ইতিমধ্যে উৎপাদিত সবজি তুলে বাজারে নেওয়া হচ্ছে।

ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, শসা, টমেটো, মুলা, লাউ, করলা, মরিচ, শইলা, পালংশাক ও ধনেপাতাসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষে মাঠজুড়ে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে।

৩৫ হেক্টর বেড়েছে সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ধুনটে ১ হাজার ৬৮৬ হেক্টর জমিতে সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর এ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৬৫১ হেক্টর। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এবার ৩৫ হেক্টর জমিতে বেশি সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, রবি মৌসুম শুরুর পর এখন পর্যন্ত উপজেলায় ৩৩৮ হেক্টরের বেশি জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ হয়েছে। বাজারে ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় আগাম আবাদে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।

আগাম সবজিতে লাভের সম্ভাবনা, আছে লোকসানের ঝুঁকিও

উপজেলার ক্ষুদ্রপীরহাটি গ্রামের কৃষক রমজান আলী বলেন, মৌসুমের শুরুতেই সবজি বাজারে তুলতে পারলে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়া যায়। এতে উৎপাদন খরচ মিটিয়ে কিছুটা লাভের আশা করা যায়।

কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, আগাম সবজি বাজারে তুলতে পারলে ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে এ ধরনের চাষে জমি প্রস্তুত, সার, সেচ ও পোকামাকড় দমনে বাড়তি খরচ করতে হয়। প্রত্যাশিত দাম না পেলে লোকসানের আশঙ্কাও রয়েছে।

একই উপজেলার কৃষক রিপন মিয়া এবার ১৮ শতক জমিতে করলা চাষ করেছেন। তিনি জানান, সার ও বীজ কিনতে ইতিমধ্যে ৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। সুতা, বাঁশসহ অন্যান্য উপকরণে ব্যয় হয়েছে আরও ৯ হাজার টাকা। সবজি বাজারজাত করা পর্যন্ত মোট খরচ প্রায় ২০ হাজার টাকা হতে পারে। বাজারদর ভালো থাকলে ওই জমির করলা বিক্রি করে প্রায় ৬০ হাজার টাকা পাওয়ার আশা করছেন তিনি।

কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ

ধুনট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুরুন নাহারের ভাষ্য অনুযায়ী, বাজারে সবজির ভালো দাম থাকায় কৃষকেরা আগাম চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। মাঠপর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা তাঁদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন, যাতে কৃষকেরা সঠিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে ভালো ফলন পেতে পারেন।

কৃষকদের প্রত্যাশা, অনুকূল আবহাওয়া ও ন্যায্য বাজারদর বজায় থাকলে আগাম সবজি চাষ তাঁদের আয় বাড়াতে সহায়তা করবে। তবে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও বাজারদরের ওঠানামা তাঁদের লাভের হিসাবকে প্রভাবিত করতে পারে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad