দুর্ঘটনা কমাতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ৩৪ ফুট প্রশস্ত হচ্ছে

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৭ দুপুর
  • ৫১৪৪ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া অংশে দুর্ঘটনা কমাতে সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ চলছে। সরু সড়ক, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক ও অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে দীর্ঘদিন ধরে এ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থান দুর্ঘটনাপ্রবণ হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে লোহাগাড়ার চুনতি ইউনিয়নের জাঙ্গালিয়া এলাকা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলোর একটি। এমন পরিস্থিতিতে ২১ ফুট প্রশস্ত সড়ককে ৩৪ ফুটে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, তিনটি প্যাকেজে চলমান প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ শেষ হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের আশা, প্রশস্তকরণের কাজ শেষ হলে যান চলাচল সহজ হবে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে। তবে পুরো মহাসড়ক চার থেকে ছয় লেনে উন্নীত করার দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।

তিন প্যাকেজে প্রায় ১০৯ কোটি টাকার কাজ

চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, তিনটি প্যাকেজে মহাসড়ক প্রশস্তকরণের কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

প্রথম প্যাকেজে সাতকানিয়ার রাস্তার মাথা থেকে লোহাগাড়ার রাজঘাটা সেতু পর্যন্ত ৮ দশমিক ২ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্ত করা হচ্ছে। এমএএইচ কনস্ট্রাকশন এ কাজ করছে। প্রকল্পটির ব্যয় প্রায় ৩৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা।

দ্বিতীয় প্যাকেজে রাজঘাটা সেতু থেকে চুনতির গ্রিন ভিউ নার্সারি পর্যন্ত ৭ দশমিক ২ কিলোমিটার সড়কের কাজ করছে এমএ ইঞ্জিনিয়ারিং। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৪ কোটি টাকা।

তৃতীয় প্যাকেজে গ্রিন ভিউ নার্সারি থেকে জাঙ্গালিয়া পর্যন্ত ৬ দশমিক ৪ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্ত করা হচ্ছে। এ কাজের দায়িত্বে রয়েছে এমএএইচ কনস্ট্রাকশন। এর ব্যয় প্রায় ৩৭ কোটি টাকা।

তিন প্যাকেজে মোট ২১ দশমিক ৮ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১০৮ কোটি ২৯ লাখ টাকা।

জাঙ্গালিয়ায় চার লেনের উদ্যোগ

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানগুলোর মধ্যে জাঙ্গালিয়া বিশেষভাবে আলোচিত। এ এলাকায় প্রায় ৯০০ মিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করা হচ্ছে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলোতে প্রয়োজন অনুযায়ী সড়কের প্রস্থ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, ২০২৫ সালের শুরু থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত সাতকানিয়ার কেরানীহাট থেকে লোহাগাড়ার চুনতি-জাঙ্গালিয়া অংশে অন্তত ১২টি উল্লেখযোগ্য দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় অন্তত ২৯ জন নিহত ও ৫৩ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে জাঙ্গালিয়ায় তিনটি দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত এবং অন্তত ৩০ জন আহত হন।

এ ছাড়া পৃথক বাস ও মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় স্কুলছাত্রী ইশা দাশ, কলেজছাত্র হৃদয় এবং দুই পর্যটকসহ অনেকে প্রাণ হারিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমার আশা চালকদের

হানিফ পরিবহনের চালক শুক্কর বলেন, মহাসড়ক প্রশস্ত হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে এবং যাত্রীরা তুলনামূলক দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন। যানজটও কমবে বলে তাঁর আশা। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলো প্রশস্ত করা হলে চালকদের উদ্বেগ কমবে।

লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপির নেতা এটিএম জাহেদ চৌধুরী বলেন, মহাসড়কের অনেক স্থান এখনো সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে এ সড়কে চলাচল করেন। এ কারণে প্রশস্তকরণের কাজ দ্রুত শেষ করা প্রয়োজন।

গুণগত মান যাচাইয়ে ল্যাব পরীক্ষা

চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা বলেন, মহাসড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। নির্মাণকাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে নিয়মিত ল্যাব পরীক্ষা করা হচ্ছে। পরীক্ষায় কাজের মান সন্তোষজনক পাওয়া গেলেই বিল অনুমোদন করা হয়।

তিনি আরও বলেন, অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের পরও নির্মাণকাজে ত্রুটি থাকতে পারে। কাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও মানুষ। তবে গুণগত মান বজায় রাখতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা অব্যাহত রয়েছে।

পুরো মহাসড়ক চার থেকে ছয় লেন করার দাবি

সচেতন মহলের মতে, চলমান প্রশস্তকরণ প্রকল্প দুর্ঘটনা কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত পুরো মহাসড়ক চার থেকে ছয় লেনে উন্নীত করা গেলে যান চলাচল আরও নিরাপদ ও গতিশীল হবে।

তাঁদের মতে, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা পর্যটন খাতের বিকাশ, শিল্পকারখানা স্থাপন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও ভূমিকা রাখতে পারে। এ জন্য স্থানীয় বাসিন্দারা চলমান প্রকল্পের কাজ যথাযথ মান বজায় রেখে দ্রুত শেষ করা এবং পর্যায়ক্রমে পুরো মহাসড়ক সম্প্রসারণের দাবি জানিয়েছেন।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad