রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় দলের নাম ব্যবহার করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের কর্মকাণ্ডের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও দলীয় নেতার কর্মকাণ্ডও যাচাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকে সতর্ক করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক ঘটনায় সাংগঠনিক ব্যবস্থাসম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির সম্পৃক্ততার অভিযোগ সামনে আসে। এরপর বিএনপির পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বুধবার ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়েছে। একই সময়ে উত্তর যুবদল ও পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়।
তবে যুবদলের পক্ষ থেকে উত্তর মহানগর কমিটি বিলুপ্তির কারণ হিসেবে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার কথা বলা হয়েছে। ছাত্রদলের পক্ষ থেকেও পশ্চিম মহানগর কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
দলীয় সূত্রের দাবি, রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ঘটনায় আরও যাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ বা প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় দখল, চাঁদাবাজি ও দলের নাম ব্যবহার করে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে—এমন নেতাকর্মীদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে।
‘অপরাধে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচ্য নয়’বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, দলের কেউ বিশৃঙ্খলায় জড়ালে ছাড় দেওয়া হবে না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শৃঙ্খলা ভঙ্গের ঘটনায় ইতোমধ্যে কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং অপরাধের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় না নেওয়ার অবস্থান রয়েছে।
সাম্প্রতিক দখল, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাগুলো নিয়ে বুধবার সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহ্দী আমিনও বলেন, অপরাধী যে-ই হোক, কোনো রাজনৈতিক ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।
দলীয় সূত্র জানায়, সরকার গঠনের পর মূল দল ও অঙ্গসংগঠনের সহস্রাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বহিষ্কার, পদ স্থগিত, অব্যাহতি ও কারণ দর্শানোর মতো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্তও কয়েক হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল বলে দলীয় দপ্তরের তথ্যের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ যাচাই করে ব্যবস্থাদলীয় সূত্রের ভাষ্য, দখল, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, জমি বা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ এবং দলের নাম ব্যবহার করে হয়রানির মতো অভিযোগ পাওয়া গেলে তা যাচাই করা হবে। গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে সাংগঠনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, দলীয় পরিচয় বা প্রভাব কাউকে আইনের আওতার বাইরে রাখবে না। ভবিষ্যতে কেউ অন্যায় কর্মকাণ্ডে জড়ালে তাঁর বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় সংগঠন শক্তিশালী করার পাশাপাশি শৃঙ্খলা রক্ষায়ও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে দলীয় নেতারা জানিয়েছেন। বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক