শনিবার (৩ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ প্রশ্ন তোলেন। একই সঙ্গে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপনা, যাত্রী হয়রানি এবং সম্প্রতি বিমানবন্দরে অব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তার নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি।
সাদিক কায়েম বলেন, একটি দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রাষ্ট্রের সক্ষমতা ও ব্যবস্থাপনার প্রতিচ্ছবি। অথচ ২০২৬ সালের স্কাইট্র্যাক্স র্যাংকিংয়ে দক্ষিণ এশিয়ার সেরা ১০ বিমানবন্দরের তালিকায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নেই। এমনকি বিশ্বের সেরা ১০০ বিমানবন্দরের তালিকাতেও এটি জায়গা পায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান কথা বলেছিলেন উল্লেখ করে ডাকসু ভিপি বলেন, তিনি প্রবাসীদের ভোগান্তির বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সাদিক কায়েমের অভিযোগ, বিমানবন্দরে যাত্রীদের ল্যাগেজ চুরি ও মালামাল যথাযথভাবে না পাওয়ার মতো সমস্যার জন্য যারা দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে প্রতিবাদকারী আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বলেন, অভিযোগের এক ঘণ্টার মধ্যে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরে হ্যান্ডকাফ ও মাথায় হেলমেট পরিয়ে আদালতে হাজির করা হয়েছে।
বিবৃতিতে তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিএনপি সরকার শুরু থেকেই প্রবাসীদের প্রতি বিরূপ আচরণ করছে। নির্বাচনের আগে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিয়ে দলটির বিভিন্ন বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এখন প্রবাসীদের ভোগান্তির বিষয়ে কথা বলায় একজন সিনিয়র নাগরিক ও মুক্তিযোদ্ধাকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
তবে এসব বক্তব্য সাদিক কায়েমের রাজনৈতিক মূল্যায়ন ও অভিযোগ। এর সত্যতা বা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য বিবৃতিতে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়নি।
যেভাবে গ্রেপ্তার হন আখতারুজ্জামানএর আগে শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় নিজ বাসভবন থেকে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর এক দিন আগে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনা নিয়ে বিমানবন্দরের নির্বাহী কর্মকর্তা গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদের সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা হয়। পরে সরকারি কাজে বাধা ও হেনস্তাসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
মামলার পর তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হলে রিমান্ডের আবেদন করা হয়।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক