শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের মাদানী চত্বরে আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিদ্ধিরগঞ্জ থানা শাখা এ সমাবেশের আয়োজন করে।
মামুনুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষকে হাইকোর্ট দেখানোর নতুন চিন্তা’ না করতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, এমন চেষ্টা করা হলে বাঙালি রাজপথ দেখিয়ে দেবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার শেখ হাসিনার মতো ‘প্রতাপশালী’ হতে পারবে না—এটি তাঁর বক্তব্য হিসেবে সংবাদমাধ্যমগুলোতে এসেছে।
যেসব দাবিতে সমাবেশসন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ, গ্যাস-বিদ্যুৎ ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে এ নাগরিক সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে মামুনুল হক ‘রাড্ডা কাণ্ড’-এর প্রসঙ্গ তুলে এর দায় শুধু একজন নারী সংসদ সদস্যের ওপর না দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকেও দায় নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে দলীয় ফোরাম নিয়ন্ত্রণ, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎসহ জনদুর্ভোগের বিষয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত এবং বাজারের সিন্ডিকেট বন্ধের দাবি জানান তিনি।
নির্বাচনে ‘ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ অভিযোগমামুনুল হক আরও অভিযোগ করেন, একই দিনে একই নির্বাচন কমিশনের অধীনে দেশজুড়ে দুটি ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং একটি ভোটে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করে তাদের নিশ্চিত আসনের বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, সংসদে গিয়ে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণেই তাদের বিজয় থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, তারা রাজপথে নামতে ছয় মাস সময় নিয়েছেন; কিন্তু গণভোটের রায় বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকার ছয় মিনিটও দেরি করেনি—এমন অভিযোগও করেন তিনি। সংসদ সদস্যদের শপথের পর ‘চেয়ার ভাগাভাগি’ ও চাঁদাবাজি শুরু হয়েছে বলেও বক্তব্য দেন মামুনুল হক। এগুলো তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য ও অভিযোগ; সংশ্লিষ্ট পক্ষের পাল্টা বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনের নায়েবে আমির মাওলানা মাহবুবুল হক। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় ও নারায়ণগঞ্জ জেলা-মহানগর শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানা শাখার সভাপতি মাওলানা হাশমত আলীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মুফতি মাহমুদুল হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে স্থানীয় নেতারাও বক্তব্য দেন।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক