চ্যাটজিপিটি, জেমিনি, ক্লড, কোপাইলটসহ বিভিন্ন এআই চ্যাটবটের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। রান্নার রেসিপি থেকে শুরু করে কোড লেখা, কাজের পরিকল্পনা, সম্পর্কের পরামর্শ কিংবা মানসিক সহায়তার জন্যও অনেকে এসব প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করছেন। ২০২৫ সালে হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউয়ের এক গবেষণায় চ্যাটজিপিটি ব্যবহারের উল্লেখযোগ্য কারণগুলোর মধ্যে থেরাপি বা মানসিক সহায়তার কথাও উঠে আসে।
তবে চ্যাটবট অনেক সময় আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভুল বা কাল্পনিক তথ্য দিতে পারে। ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করলেও তৈরি হতে পারে গোপনীয়তার ঝুঁকি। চিকিৎসা ও মানসিক স্বাস্থ্যের মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রেও ভুল পরামর্শের আশঙ্কা রয়েছে। এসব কারণে নিচের ছয় ধরনের বিষয় নিয়ে এআই চ্যাটবট ব্যবহারে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।
ষড়যন্ত্র তত্ত্বষড়যন্ত্র তত্ত্বের মতো অস্পষ্ট ও বিতর্কিত বিষয়ে এআই চ্যাটবট ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্যকে সত্য হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে। কোনো তথ্য যথাযথভাবে যাচাই না করেই চ্যাটবট সেটিকে বিস্তারিত কিংবা নাটকীয়ভাবে তুলে ধরতে পারে। এ ধরনের ভুল তথ্যকে সাধারণভাবে ‘হ্যালুসিনেশন’ বলা হয়।
রাসায়নিক, জৈবিক, রেডিওলজিক্যাল ও পারমাণবিক হুমকিরাসায়নিক, জৈবিক, রেডিওলজিক্যাল ও পারমাণবিক অস্ত্রসংক্রান্ত বিষয় অত্যন্ত সংবেদনশীল। ২০২৫ সালের এপ্রিলে এক এআই ব্লগার দাবি করেন, তিনি চ্যাটজিপিটিকে ওয়েবসাইট হ্যাকিং, ভুয়া জিপিএস অবস্থান তৈরি এবং বোমা তৈরির বিষয়ে প্রশ্ন করেছিলেন। পরে ওপেনএআই থেকে সতর্কতামূলক ই-মেইল পাওয়ার দাবিও করেন তিনি।
এ ধরনের বিষয়ে কৌতূহলবশত প্রশ্ন করাও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এআই প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের মডেল যেন রাসায়নিক, জৈবিক, রেডিওলজিক্যাল বা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে সহায়তা না করে, সে জন্য নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করছে।
গুরুতর অপরাধ বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডএআই চ্যাটবটের নিরাপত্তাব্যবস্থা আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে। ফলে গুরুতর অপরাধ বা অনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে করা প্রশ্ন সব সময় সাধারণ কথোপকথন হিসেবে বিবেচিত নাও হতে পারে।
নির্দিষ্ট পরীক্ষামূলক পরিস্থিতিতে ক্লড গুরুতর অন্যায়ের সম্ভাবনা শনাক্ত করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা সংবাদমাধ্যমকে সতর্ক করার মতো পদক্ষেপ নিতে পারে—এমন উদাহরণও আলোচনায় এসেছে।
ব্যক্তিগত ও গোপনীয় তথ্যকর্মক্ষেত্রে এআই টুল ব্যবহারের সময় ব্যক্তিগত ও গোপনীয় তথ্য শেয়ার করা বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত ব্যবস্থা ও নীতিমালায় স্পষ্ট অনুমতি না থাকলে রোগীর চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি, ক্লায়েন্টের ব্যক্তিগত তথ্য, ফোন নম্বর, পাসওয়ার্ড, লগইন তথ্য, ব্যবসায়িক গোপন নথি বা চুক্তির আওতাধীন তথ্য চ্যাটবটে দেওয়া উচিত নয়।
রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসাউপসর্গ দেখে সম্ভাব্য রোগ সম্পর্কে ধারণা পেতে অনেকে এআই চ্যাটবট ব্যবহার করেন। প্রাথমিক তথ্য বোঝার ক্ষেত্রে এটি সহায়ক হলেও চ্যাটবটের উত্তরের ভিত্তিতে নিজে রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসা শুরু করা ঝুঁকিপূর্ণ।
চ্যাটবট ভুল তথ্য দিতে পারে, গুরুত্বপূর্ণ কোনো উপসর্গ বাদ দিতে পারে কিংবা একই ধরনের উপসর্গের একাধিক কারণের মধ্যে ভুল কারণকে গুরুত্ব দিতে পারে। তাই চিকিৎসাসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
মানসিক স্বাস্থ্য ও থেরাপিমানসিক স্বাস্থ্যে এআইয়ের ব্যবহারও বাড়ছে। সহজলভ্যতা ও তুলনামূলক কম খরচের কারণে অনেকে চ্যাটবটকে মানসিক সহায়তার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছেন। তবে এটি প্রশিক্ষিত মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীর বিকল্প নয়।
একটি গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু এআই থেরাপি চ্যাটবট নির্দিষ্ট মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষতিকর স্টেরিওটাইপ বা নেতিবাচক ধারণা তৈরি করতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে বিপজ্জনক প্রতিক্রিয়াও দিতে পারে।
বিশেষ করে আত্মহত্যার চিন্তা, গুরুতর মানসিক সংকট, সাইকোসিস বা জটিল মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতিতে শুধু চ্যাটবটের ওপর নির্ভর করা ঝুঁকিপূর্ণ। এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রশিক্ষিত পেশাজীবীর সহায়তা নেওয়া প্রয়োজন।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক