বাণিজ্য সহজীকরণে ডব্লিউটিওর বাকি শর্ত দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ

  • প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স
  • আপলোড সময় : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪০ দুপুর
  • ৩৬৬০ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহজ ও প্রতিযোগিতামূলক করতে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) বাণিজ্য সহজীকরণ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের বাকি কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে পণ্য খালাসে সময় ও ব্যয় কমাতে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো এবং বাণিজ্য প্রক্রিয়া আরও সহজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ন্যাশনাল ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন কমিটির দশম সভায় এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

৫৪টির মধ্যে বাস্তবায়িত ৪৭ পদক্ষেপ

সভায় উপস্থাপিত কার্যপত্র অনুযায়ী, ডব্লিউটিওর বাণিজ্য সহজীকরণ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত ৫৪টি পদক্ষেপের মধ্যে ৪৭টি ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে।

এর মধ্যে ক্যাটাগরি ‘এ’-এর ২১টি এবং ক্যাটাগরি ‘বি’-এর ১৮টি বাধ্যবাধকতা বাস্তবায়নের বিষয়টি ডব্লিউটিওকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। ক্যাটাগরি ‘সি’-এর ১৫টি পদক্ষেপের মধ্যে ৮টি বাস্তবায়িত হয়েছে। বাকি সাতটি পদক্ষেপ ২০৩০ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে—এ বিবেচনায় অবশিষ্ট কার্যক্রম দ্রুত শেষ করার ওপর সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এলডিসি উত্তরণে বাণিজ্য সক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তুতি

এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের পর বৈশ্বিক বাজারে শুল্কসুবিধা সংকুচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশীয় শিল্পকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম রাখতে সরকার নতুন রোডম্যাপ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

২০২৯ সালের নভেম্বরের মধ্যে সামষ্টিক অর্থনীতি ও বাহ্যিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, শিল্পের উৎপাদনশীলতা ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়ানো, তৈরি পোশাক খাতের ওপর অতিনির্ভরতা কমিয়ে রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং বৈশ্বিক মূল্য সংযোজন শৃঙ্খলের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যব্যবস্থার গভীর ও টেকসই সংযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত সুবিধা ধরে রাখতে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ), সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সিইপিএ) ও অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) চূড়ান্ত করা, ব্যবসা সহজীকরণ সূচকের উন্নতি, দক্ষ কর্মী বাহিনী তৈরি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

১৯ সংস্থা যুক্ত ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডোতে

বাণিজ্য-সংক্রান্ত সনদ, লাইসেন্স ও পারমিটের আবেদন এবং সেবা একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে আনতে এনবিআর ‘ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো’ চালু করেছে। এতে এখন পর্যন্ত ১৯টি সংস্থা যুক্ত হয়েছে। আরও ১৮টি দপ্তরকে এই প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।

কার্যক্রমটি সমন্বিতভাবে পরিচালনার জন্য পৃথক ‘বাংলাদেশ সিঙ্গেল উইন্ডো কমিশনারেট’ গঠনের কাজও এগিয়ে চলছে।

এনবিআর জানিয়েছে, স্বয়ংক্রিয় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার (এআরএমএস) আগামী অক্টোবরের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে। ঝুঁকি বিশ্লেষণভিত্তিক এই ব্যবস্থা চালু হলে পণ্য খালাসের সময় কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি অথরাইজড ইকোনমিক অপারেটর (এইও) সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

পচনশীল পণ্যের দ্রুত খালাসে কোল্ড স্টোরেজ

পচনশীল পণ্য দ্রুত খালাস ও সংরক্ষণে বন্দরগুলোতে কোল্ড স্টোরেজ সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর ও বিমানবন্দর এলাকায় কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন ও আধুনিকায়নের কাজ চলছে।

মোংলা বন্দরে কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণে সম্ভাব্যতা যাচাই ও পরামর্শক সেবা নেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। পাশাপাশি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বেনাপোল স্থলবন্দরেও কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর দরপত্র মূল্যায়ন শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

এ ছাড়া সীমান্ত এজেন্সিগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে ‘বর্ডার এজেন্সি কোঅপারেশন’ সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করে ডব্লিউটিওকে অবহিত করা হয়েছে।

বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান বলেন, বাণিজ্য সহজীকরণ চুক্তির আওতাধীন সব কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সহযোগিতায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ করা হবে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad