সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে নিত্যপণ্যের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা এবং সার্বিক বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা নিয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সভায় বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের পক্ষ থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের উৎপাদন, সরবরাহ ও দামের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। এতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে আদার দাম কিছুটা কমলেও চাল, ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল, আলু, পেঁয়াজ ও ডিমসহ অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে।
সভায় আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং দেশীয় বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি ঠেকাতে ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়। বাজারের অস্থিরতা কমাতে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত মনিটরিং জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। কোনো সিন্ডিকেট বা অসাধু গোষ্ঠী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে পণ্যের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাজারে ভোক্তাদের আস্থা বাড়াতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।
আমদানিতে ইতিবাচক চিত্রবাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মসুর ডালের বার্ষিক চাহিদা প্রায় সাত লাখ টন। গত বছরের ১ জুলাই থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৪২ হাজার টন মসুর ডাল আমদানি হয়েছিল। চলতি বছরের একই সময়ে আমদানির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ছয় হাজার টনে।
ভোজ্যতেলের কাঁচামাল বা সিড আমদানিতেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে দুই লাখ ৭৩ হাজার টন সিড আমদানি হলেও চলতি বছর তা বেড়ে তিন লাখ ৮৬ হাজার টনে পৌঁছেছে।
দেশে চিনির বার্ষিক চাহিদা প্রায় ২০ থেকে ২১ লাখ টন। এর মধ্যে শুধু রমজান মাসেই প্রায় তিন লাখ টন চিনির চাহিদা তৈরি হয়। কমিশনের হিসাবে, সামগ্রিকভাবে নিত্যপণ্যের আমদানি ও পাইপলাইন পরিস্থিতি ইতিবাচক রয়েছে।
ভোক্তা অধিকার সংগঠনের সতর্কতাকনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, সরকারের আশ্বাসে ভোক্তারা কতটা আশ্বস্ত হবেন, সেটিই এখন বড় বিষয়। সরকারের প্রস্তুতি যদি আগের প্রচলিত ব্যবস্থার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকার কথা বলা হলেও বড় করপোরেট গ্রুপ ও আমদানিকারকদের একটি অংশ কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ভোক্তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করতে পারে।
তিনি বলেন, আমদানি ও চাহিদার বিষয়টি যথাযথভাবে অনুসন্ধানের পাশাপাশি কঠোর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। আমদানি ও মজুত করা পণ্য দেশের সর্বত্র সরবরাহে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি হলে তা কঠোরভাবে দমন করতে হবে। একই সঙ্গে আমদানি, মজুত ও বিতরণের সঠিক তথ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং চাহিদা ও জোগানের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখতে হবে।
সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, নিত্যপণ্যের বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। বাজারে কোনো ধরনের অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে দেওয়া হবে না। বর্তমান পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কেউ অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বাড়ালে বা অতিরিক্ত মুনাফার চেষ্টা করলে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স