বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করা তরুণদের একটি বড় অংশ এখন ক্যারিয়ার বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বেতন, চাকরির স্থায়িত্ব, ভবিষ্যৎ চাহিদা এবং বিদেশে কাজের সুযোগ বিবেচনা করছেন। ক্যারিয়ারবিষয়ক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনীতি ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি পেশাকে সম্ভাবনাময় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অর্থনৈতিক বা আর্থিক উপদেষ্টাব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অর্থ ব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগ পরিকল্পনা এবং আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে পরামর্শ দেওয়া অর্থনৈতিক বা আর্থিক উপদেষ্টার প্রধান দায়িত্ব। ক্লায়েন্টের আয়, সম্পদ, ভবিষ্যৎ লক্ষ্য ও ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে তারা আর্থিক পরিকল্পনা তৈরি করেন।
ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ও পরামর্শক সংস্থায় এ ধরনের পেশাজীবীদের কাজের সুযোগ রয়েছে। অর্থনীতি, ফাইন্যান্স, অ্যাকাউন্টিং বা ব্যবসায় প্রশাসনের শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় পেশাগত দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে এ খাতে ক্যারিয়ার গড়তে পারেন।
ফার্মাসিস্টস্বাস্থ্যসেবা খাতে ফার্মাসিস্টদের গুরুত্বও বাড়ছে। ওষুধের ব্যবহার, সংরক্ষণ, মাত্রা ও নিরাপদ প্রয়োগ সম্পর্কে রোগী ও চিকিৎসকদের সহযোগিতা করার পাশাপাশি ওষুধ উৎপাদন ও মান নিয়ন্ত্রণেও তারা ভূমিকা রাখেন।
ফার্মেসি বিষয়ে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর হাসপাতাল, কমিউনিটি ফার্মেসি, ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, গবেষণাগারসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের বড় ওষুধশিল্পও এ পেশায় কর্মসংস্থানের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।
ডাটা সায়েন্টিস্টডিজিটাল অর্থনীতিতে তথ্যের গুরুত্ব বাড়ায় ডাটা সায়েন্সও গুরুত্বপূর্ণ ক্যারিয়ার ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। বিপুল পরিমাণ তথ্য থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের উপযোগী তথ্য বের করা, ডাটা বিশ্লেষণ ও মডেলিং করা ডাটা সায়েন্টিস্টদের অন্যতম কাজ।
এ কাজে পরিসংখ্যান, মেশিন লার্নিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ছাড়াও ব্যাংক, ই-কমার্স, স্বাস্থ্যসেবা, গবেষণা এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ডাটা সায়েন্টিস্টদের কাজের সুযোগ রয়েছে।
গণিত, পরিসংখ্যান, কম্পিউটার সায়েন্স বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি প্রোগ্রামিং ও ডাটা বিশ্লেষণের দক্ষতা এ পেশায় গুরুত্বপূর্ণ।
সফটওয়্যার ডেভেলপারপ্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট অন্যতম আলোচিত ক্যারিয়ার। ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ, ব্যবসায়িক সফটওয়্যার ও বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরিতে সফটওয়্যার ডেভেলপারদের ভূমিকা রয়েছে।
এ পেশায় সফল হতে প্রোগ্রামিং ভাষা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, সৃজনশীল চিন্তাভাবনা এবং নতুন প্রযুক্তি শেখার মানসিকতা প্রয়োজন। দেশীয় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং, রিমোট জব এবং আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ থাকায় এ পেশার কর্মক্ষেত্রও বিস্তৃত।
জনসংযোগ ব্যবস্থাপকপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গ্রাহক, গণমাধ্যম, বিনিয়োগকারী ও সাধারণ মানুষের ইতিবাচক যোগাযোগ বজায় রাখার দায়িত্ব পালন করেন জনসংযোগ বা পাবলিক রিলেশনস (পিআর) ব্যবস্থাপকরা।
প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড ইমেজ তৈরি, গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ, প্রচারণা পরিচালনা এবং সংকটকালীন যোগাযোগ ব্যবস্থাপনায় তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। যোগাযোগ ও লেখালেখির দক্ষতা, উপস্থাপনের সক্ষমতা এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এ পেশায় বিশেষভাবে প্রয়োজন।
কম্পিউটার সিস্টেম বিশ্লেষকপ্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তিগত অবকাঠামোকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্যে কাজ করেন কম্পিউটার সিস্টেম বিশ্লেষকরা। প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান কম্পিউটার সিস্টেম ও সফটওয়্যার বিশ্লেষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন প্রযুক্তি বা ব্যবস্থার পরামর্শ দেওয়াও তাদের দায়িত্বের অংশ।
আইটি বিভাগ, ব্যাংক, করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন সংস্থায় এ পেশাজীবীদের কাজের সুযোগ রয়েছে। কম্পিউটার সায়েন্স বা তথ্যপ্রযুক্তিতে শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবসায়িক প্রয়োজন বোঝার দক্ষতা থাকলে এ ক্ষেত্রে ক্যারিয়ারের সুযোগ বাড়ে।
শুধু বেতন নয়, দক্ষতাও গুরুত্বপূর্ণক্যারিয়ার বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে শুধু সম্ভাব্য বেতন বিবেচনা করলেই হয় না। কোনো পেশার ভবিষ্যৎ চাহিদা, ব্যক্তিগত আগ্রহ, প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের পরিবেশ এবং দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমেশনের দ্রুত বিস্তারের ফলে ভবিষ্যতের চাকরির বাজারে প্রযুক্তিগত জ্ঞান, বিশ্লেষণী ক্ষমতা, যোগাযোগ দক্ষতা এবং নিয়মিত নতুন কিছু শেখার সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তাই নির্দিষ্ট একটি চাকরির পেছনে ছোটা নয়, পরিবর্তনশীল চাকরির বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজের দক্ষতা গড়ে তোলাই দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ারের ভিত্তি হতে পারে।
তথ্যসূত্র: আজকের পত্রিকা, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক