মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছরের ৫ মার্চ রাতে মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে আট বছর বয়সী আছিয়া ধর্ষণের শিকার হয়। শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখ তাকে ধর্ষণের পাশাপাশি হত্যার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। গুরুতর অবস্থায় শিশুটিকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে পুলিশ চার আসামিকেই গ্রেপ্তার করে।
২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল পুলিশ মামলাটির অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করে। ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। ২৭ এপ্রিল থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে ৭ মে তা শেষ হয়। রাষ্ট্রপক্ষে মামলায় মোট ২৯ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। মাত্র ১৩ কার্যদিবসে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়।
এক বছর আগে ১৩ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসানের আদালতে মামলার শেষ দিনের যুক্তিতর্ক শেষ হয়। পরে ১৭ মে রায় ঘোষণা করা হয়।
রায়ে প্রধান আসামি হিটু শেখকে (৪৭) মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। তবে মামলার অপর তিন আসামি—নিহত শিশুটির বোনের স্বামী সজীব শেখ (১৯), সজীবের ছোট ভাই (১৭) এবং সজীবের মা জাহেদা বেগম (৪০)—খালাস পান।
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, কোনো মামলায় বিচারিক আদালত মৃত্যুদণ্ড দিলে তা অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট মামলার নথি উচ্চ আদালতে পাঠাতে হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ২১ মে মামলাটির নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে হাইকোর্ট হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন এবং এখন সেই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হলো।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক