এর প্রভাবে বিভিন্ন এলাকায় আবারও তীব্র লোডশেডিং শুরু হয়েছে। শহরাঞ্চলে দিনে কয়েক দফা বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। আর গ্রামাঞ্চলের কোথাও কোথাও ৭ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং ফিরে এসেছে। গরমের মধ্যে এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
গ্যাস সংকটে বন্ধ একাধিক কেন্দ্রকয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশাপাশি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কয়েকটি গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রও বন্ধ রয়েছে। আশুগঞ্জের ৪৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি কেন্দ্র বুধবারও ৩১৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছিল। পরে কারিগরি ত্রুটির কারণে কেন্দ্রটিও বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে গ্যাস সংকটের কারণে শুধু ঢাকা অঞ্চলের অন্তত সাতটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে অথবা কম সক্ষমতায় চলছে। চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলেও একটি করে বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে।
চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কমবৃহস্পতিবার বিকেলে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৩৪৫ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে উৎপাদন হচ্ছিল ১২ হাজার ৭৮৮ মেগাওয়াট। ফলে চাহিদা ও উৎপাদনের মধ্যে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
ঝড়ের কারণে কয়লা সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় গত ৭ আগস্ট থেকে আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদন কমিয়ে দেয়। গত মাসের শেষ দিকে কেন্দ্রটি উৎপাদন বাড়িয়ে দিনের বেলায় ৯০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করছিল। সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সরবরাহ করা হচ্ছিল সর্বোচ্চ ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট।
গতকাল রাতে আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গিয়েছিল। তবে একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বর্তমানে কেন্দ্রটির উৎপাদন ৭৫০ মেগাওয়াটেরও নিচে নেমে এসেছে।
একাধিক কেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ বা কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বাড়তে থাকা লোডশেডিংয়ে গরমের মধ্যে জনদুর্ভোগ আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।

প্রথম দর্পণ,জাতীয় ডেস্ক