তাওহিদের শিক্ষা বিকৃত না করে ইসলামের প্রকৃত আদর্শ প্রতিষ্ঠা এবং মাজারের দান-সম্পদের স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ
ধর্মের নামে কুসংস্কার, শিরকি কর্মকাণ্ড ও আর্থিক অনিয়ম বন্ধে সামাজিক সচেতনতা এবং রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। ইসলামি চিন্তাবিদ ও বুয়েট সেন্ট্রাল মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি রাশেদুর রহমান বলেছেন, বাংলার অলি-আউলিয়ারা মানুষকে তাওহিদ, ঈমান ও নৈতিকতার পথে আহ্বান জানাতে এ অঞ্চলে এসেছিলেন। কিন্তু তাদের সমাধিকে কেন্দ্র করে বহু স্থানে এমন কিছু কর্মকাণ্ড চলছে, যা ইসলামের মৌলিক শিক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
তিনি বলেন, অনেক মাজারে কবরকে কেন্দ্র করে সিজদা করা, মানত করা, মৃত ব্যক্তির কাছে সাহায্য প্রার্থনা, কবরের গ্রিল ধরে প্রার্থনা কিংবা বিভিন্ন ধরনের কুসংস্কারমূলক আচরণ দেখা যায়। ইসলামের দৃষ্টিতে এসব আমলের কোনো ভিত্তি নেই; বরং কোরআন ও সহিহ হাদিসে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও কাছে ইবাদত বা সাহায্য প্রার্থনার ব্যাপারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন মাজারে মাদকসেবন, অসামাজিক কর্মকাণ্ড ও অনৈতিক পরিবেশ তৈরির অভিযোগও দীর্ঘদিনের। লেখকের মতে, এসব কর্মকাণ্ড ধর্মীয় পরিবেশকে কলুষিত করছে এবং মানুষের ঈমানি চেতনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
দান-অনুদানের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন
লেখায় দাবি করা হয়, বিভিন্ন মাজারে দানবাক্সের মাধ্যমে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেই অর্থের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছ হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয় না। এতে দুর্নীতি ও অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সম্প্রতি সিলেটে একটি ঐতিহাসিক মাজারের দানবাক্সের অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগের প্রশংসা করে লেখক বলেন, দীর্ঘদিনের অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হতে পারে।
ওয়াক্ফ সম্পদের সুশাসনের দাবি
লেখকের মতে, মাজারের দান ও সংশ্লিষ্ট সম্পদ ওয়াক্ফ সম্পদ হিসেবে যথাযথ কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হওয়া উচিত। দানবাক্স খোলা, অর্থ গণনা, সংরক্ষণ ও ব্যয়ের প্রতিটি ধাপে ডিজিটাল রেকর্ড, সিসিটিভি নজরদারি এবং নিয়মিত নিরীক্ষার (অডিট) ব্যবস্থা চালুর সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ প্রভাব ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
দানের সঠিক খাত বেছে নেওয়ার আহ্বান
তিনি বলেন, ইসলামে দান-সদকার মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। তাই দরিদ্র, এতিম, অসহায়, রোগী, শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানে দান করা অধিক ফলপ্রসূ। সমাজের প্রকৃত অভাবগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে দানের প্রকৃত উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হয়।
শেষ কথা
লেখক উল্লেখ করেন, অলি-আউলিয়াদের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা অবশ্যই মুসলমানদের হৃদয়ে থাকবে। তবে সেই শ্রদ্ধা যেন কখনো ইসলামের আকিদাবিরোধী কোনো আচারে রূপ না নেয়। তিনি ধর্মীয় শিক্ষা, জনসচেতনতা, প্রশাসনিক তদারকি এবং আইনের কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে মাজারকেন্দ্রিক কুসংস্কার, শিরকি আচরণ ও দুর্নীতি প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

মোঃ আল আমিন হোসেন,বার্তা সম্পাদক