‘হেবা’ (الهبة) অর্থ বিনা বিনিময়ে কাউকে সম্পদের মালিক বানিয়ে দেওয়া। ফিকহের পরিভাষায়, জীবদ্দশায় স্বেচ্ছায় কোনো সম্পদের মালিকানা অন্যের কাছে বিনা বিনিময়ে হস্তান্তর করাকে হেবা বলা হয়। (মওসুয়াতুল ফিকহিয়্যাহি: ৪২/১২০)
হেবার ধরনউদ্দেশ্য ও শর্তের বিবেচনায় হেবা বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। সাধারণভাবে এটি দুই প্রকার—হেবা মুতলাকাহ ও হেবা বিল-শর্ত। কোনো শর্ত ছাড়া সম্পদ হস্তান্তরকে হেবা মুতলাকাহ এবং বৈধ কোনো শর্তের সঙ্গে হেবা করাকে হেবা বিল-শর্ত বলা হয়। (মওসুয়াতুল ফিকহিয়্যাহি: ৪২/১৩৬)
কার জন্য হেবা করা যায়শরিয়তসম্মত উদ্দেশ্যে যেকোনো যোগ্য ব্যক্তিকে হেবা করা যায়। সন্তান, পিতা-মাতা, স্বামী বা স্ত্রী, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু, দরিদ্র ব্যক্তি এমনকি অমুসলিম ব্যক্তিকেও হেবা করা বৈধ হতে পারে। তবে সন্তানদের মধ্যে হেবা করার ক্ষেত্রে ন্যায় ও সমতা রক্ষার বিষয়ে হাদিসে বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে।
কে হেবা করতে পারেনসম্পত্তির বৈধ মালিক, যিনি প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কের এবং স্বেচ্ছায় সম্পদ হস্তান্তর করছেন—তিনি হেবা করতে পারেন। একই সঙ্গে সম্পত্তি হস্তান্তরের আইনগত ও শরিয়তসম্মত ক্ষমতাও থাকতে হবে। অপ্রাপ্তবয়স্ক বা অক্ষম ব্যক্তি নিজের সম্পত্তি স্বাধীনভাবে হেবা করতে পারেন না। (বাদায়েউস সানায়ে: ৬/১১৮, মুগনি: ২/৩৯৭)
কখন হেবা করা যায়জীবিত অবস্থায় যেকোনো সময় হেবা করা যায়। তবে মৃত্যুর পর সম্পদ কার্যকরভাবে দেওয়ার কথা বলা হলে সেটি সাধারণ হেবা হিসেবে গণ্য হয় না; বরং ওসিয়তের বিধানের আওতায় পড়ে। কারণ হেবার ক্ষেত্রে জীবদ্দশায়ই মালিকানা হস্তান্তর সম্পন্ন হতে হয়।
হেবার সঙ্গে শর্ত দেওয়া যাবে কিহেবার সঙ্গে শর্ত যুক্ত করা যেতে পারে। তবে শর্তটি শরিয়তবিরোধী হওয়া যাবে না এবং তা হেবার প্রকৃতির পরিপন্থীও হতে পারবে না। এমন কোনো শর্ত, যার কারণে হেবার মূল উদ্দেশ্য—মালিকানা হস্তান্তর—নষ্ট হয়, তা গ্রহণযোগ্য নয়। (মওসুয়াতুল ফিকহিয়্যাহি: ৪২/১৩৬)
কোন সম্পদ হেবা করা যায়যে সম্পদ বা বস্তু বিক্রি করা বৈধ, তা হেবা করাও বৈধ। (মওসুয়াতুল ফিকহিয়্যাহি: ৪২/১২৫, আল-আশবাহ: ৪৬৯)
হেবার মূল চার বিষয়হেবা সম্পর্কে চারটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—জীবিত অবস্থায় সম্পদ দেওয়া, বিনা বিনিময়ে দেওয়া, মালিকানা হস্তান্তর করা এবং শরিয়তসম্মত পদ্ধতি অনুসরণ করা। এই মৌলিক বিষয়গুলোর কোনো একটিতে ব্যত্যয় ঘটলে হেবা সহিহ হবে না।
লেখক: সিনিয়র মুফতি ও শিক্ষাসচিব, শাইখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, ঢাকা।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক