সিরাজগঞ্জের সলঙ্গার হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকায় কিশোর গ্যাং ও অপরাধচক্রের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মঞ্জুরুল ইসলাম (২৫) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। মাদক ব্যবসা, জুয়া, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ করে এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, হাটিকুমরুল ইউনিয়নের রশিদপুর গ্রামের বাসিন্দা মঞ্জুরুল দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও ক্লিপে তাকে বলতে শোনা যায়, “কোমরে অস্ত্র থাকলে শরীর গরম হয়ে যায়।” একই সঙ্গে তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ভিডিওও ভাইরাল হয়েছে। এসব ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, কয়েক মাস আগে তিনি পাবনা বাসস্ট্যান্ডের পেছনের একটি পরিত্যক্ত স্থাপনায় গেলে মঞ্জুরুল ও তার সহযোগীরা তাকে জোরপূর্বক একটি কক্ষে নিয়ে মারধর করেন। পরে তাকে চোর আখ্যা দিয়ে ভিডিও ধারণ করা হয় এবং তার মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে কয়েক দফায় তার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেলটি এখনও ফেরত পাননি।
হাটিকুমরুল এলাকার কয়েকজন আবাসিক হোটেল মালিক জানান, অতীতে মঞ্জুরুল ও তার কয়েকজন সহযোগী নিয়মিত বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে যাতায়াত করতেন। সেখানে জুয়া ও মাদকের আসর বসানোর পাশাপাশি সুযোগ পেলে অতিথিদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের ঘটনাও ঘটত বলে তারা অভিযোগ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন বলেন, “মঞ্জুরুল এখন এলাকায় একটি কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দিচ্ছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ভাইরাল অডিও-ভিডিওর বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।”
পাবনা-ঢাকা মহাসড়কের পাশে ব্যবসা করা কয়েকজন চা-দোকানি জানান, দিনের বেলায় অভিযুক্তকে খুব একটা দেখা না গেলেও রাতের দিকে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তাকে ও তার কয়েকজন সহযোগীকে মাঝে মধ্যে দেখা যায়।
মঞ্জুরুলের এক নিকটাত্মীয় বলেন, “ছোটবেলা থেকেই সে বেপরোয়া স্বভাবের। পরিবারের পক্ষ থেকে অনেক চেষ্টা করা হলেও তাকে সঠিক পথে আনা সম্ভব হয়নি। কিছুদিন আগে তাকে কর্মসংস্থানের জন্য অন্য জেলায় পাঠানো হয়েছিল, তবে পরে সে সেখান থেকেও চলে আসে।”
রশিদপুর এলাকার একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়াই মঞ্জুরুলের প্রধান কর্মকাণ্ডে পরিণত হয়েছে। তারা মনে করেন, সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, হাটিকুমরুল গোলচত্বরকে মাদক, জুয়া, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংমুক্ত করতে অভিযুক্তদের পাশাপাশি তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদেরও আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মঞ্জুরুল ও তার বাবার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিও ও ভিডিও ক্লিপ আমাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রায়গঞ্জ সার্কেল) সাইফুল ইসলাম বলেন, “মাদক, জুয়া ও কিশোর গ্যাং দমনে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক