রোহিঙ্গা সংকটে স্বাগতিকদের অংশ কমিয়ে ৫ শতাংশ, ক্ষোভে কক্সবাজারের স্থানীয় সংগঠনগুলো

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১০ জুন ২০২৬, ০৪:০৪ দুপুর
  • ১২৫৮০ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

জেআরপি-২০২৬ থেকে স্থানীয় এনজিও বাদ দেওয়ার অভিযোগ; প্রত্যাবাসনের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ চাইল সিএসও-এনজিও ফোরাম

রহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘের যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনা (জেআরপি)-২০২৬ এ স্বাগতিক জনগোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দ ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে কক্সবাজারের স্থানীয় এনজিওগুলোর সংগঠন কক্সবাজার সিএসও-এনজিও ফোরাম (সিসিএনএফ)। একই সঙ্গে তারা দাবি করেছে, নতুন পরিকল্পনার বাস্তবায়ন কাঠামো থেকে স্থানীয় এনজিওগুলোকে কার্যত বাদ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার কক্সবাজার প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। তারা বলেন, দীর্ঘ নয় বছর ধরে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় জনগণ ও স্থানীয় সংগঠনগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও জেআরপি-২০২৬ প্রণয়নে তাদের মতামত ও অংশগ্রহণকে উপেক্ষা করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক এনজিও (আইএনজিও) এবং জাতীয় পর্যায়ের অনেক সংস্থা রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে সক্রিয় থাকলেও তাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনা বা রোডম্যাপ এখনো উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে সংকট দীর্ঘায়িত হচ্ছে এবং এর চাপ বহন করতে হচ্ছে কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে।

সিসিএনএফ নেতারা বলেন, জেআরপি-২০২৬ থেকে স্থানীয় এনজিওগুলোকে বাদ দেওয়া ‘গ্র্যান্ড বার্গেইন’-এর স্থানীয়করণ (Localization) অঙ্গীকারের পরিপন্থী। তাদের মতে, ইউএনএইচসিআরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর উচিত স্থানীয় অংশীদারদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সম্পৃক্ত করা।

তারা আরও অভিযোগ করেন, জেআরপি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় এনজিও প্রতিনিধিদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়নি। পরিবর্তে আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের মাধ্যমে স্থানীয়দের প্রতিনিধিত্ব দেখানো হয়েছে, যা বাস্তবতার প্রতিফলন নয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা ‘জেআরপি ২.০’ নামে একটি নতুন কাঠামোর প্রস্তাব দেন। এতে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য সময়ভিত্তিক ও বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়।

সিসিএনএফের প্রধান মডারেটর রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তার পাশাপাশি তাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে ক্যাম্পে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের শান্তি, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতেও সমন্বিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বরাদ্দকৃত প্রায় ১৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ৯২ শতাংশ জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা এবং ৮ শতাংশ আন্তর্জাতিক এনজিওগুলোর কাছে গেছে। স্থানীয় সংগঠনগুলো সরাসরি অর্থায়নের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

তাদের মতে, ভবিষ্যতে তহবিল বণ্টনের ক্ষেত্রে স্থানীয় সংগঠনগুলোকে জেআরপির আবেদনকারী ও বাস্তবায়নকারী অংশীদার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি একক কোনো প্রতিষ্ঠানের হাতে অধিকসংখ্যক প্রকল্প কেন্দ্রীভূত না করে অর্থায়নে স্বচ্ছতা ও ভারসাম্য নিশ্চিত করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় এনজিও প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠনের নেতা এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad