আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে দেশের শিক্ষা খাতে জিডিপির ২ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলন। অর্থের হিসাবে এ বরাদ্দের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসে শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ বলে দাবি করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী।
তিনি বলেন, গত অর্থবছরে শিক্ষাখাতে জিডিপির ১ দশমিক ৬৯ শতাংশ বরাদ্দ ছিল। তবে সেই হিসাবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের কিছু ব্যয়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এবার প্রাথমিক, মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও উচ্চশিক্ষা—সব মিলিয়ে সরাসরি শিক্ষা খাতেই জিডিপির ২ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হচ্ছে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, সরকার পর্যায়ক্রমে শিক্ষাখাতে জিডিপির ৫ শতাংশ পর্যন্ত বরাদ্দ বৃদ্ধির পরিকল্পনা নিয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বরাদ্দ চেয়েছিলাম। প্রধানমন্ত্রী ধাপে ধাপে সেই লক্ষ্যে এগোনোর কথা বলেছেন। এ বছর আমরা ২ শতাংশ বরাদ্দ পেয়েছি, যা একটি বড় অগ্রগতি।”
তিনি জানান, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন এবং কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে কোন কোন খাতে বিনিয়োগ করা হবে, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় প্রকল্প প্রস্তুতের নির্দেশনা দিয়েছেন।
বৈঠকে আসন্ন বিভিন্ন শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, আগামী ২০ জুন আর্মি ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য শিশুদের গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এছাড়া ৭ জুন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে কারিগরি ও কম্পিউটারভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনেও তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
অবসরভাতা ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থপ্রাপ্তি নিয়ে শিক্ষক সমাজের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, এ খাতে বরাদ্দ পাওয়া অর্থ থেকে দ্রুত অর্থ বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হবে। প্রধানমন্ত্রীও এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং বলেছেন, “শিক্ষকরা কোনোভাবেই অবহেলিত থাকতে পারেন না।”
এছাড়া শিক্ষক প্রশিক্ষণ, কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়ন এবং নতুন শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই মুদ্রণসহ বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এসব বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরতে আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হবে।

এইচএম মোকাদ্দেস,নির্বাহী সম্পাদক