তাহসিফ হত্যা: রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন দিশা, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:২৯ রাত
  • ৩১০২ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় গ্রেফতার তার বান্ধবী জেরিকা তাসনিম দিশাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। দ্বিতীয় দফায় সাত দিনের রিমান্ড শেষে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

এদিন রিমান্ড শেষে দিশাকে ঢাকার আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নৌ-পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালত এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই সাইফুল ইসলাম বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন। শুনানিতে আসামিপক্ষ থেকে কোনো জামিন আবেদন করা হয়নি।

জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে উল্লেখ করা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে দিশা মামলার ঘটনা সম্পর্কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তদন্তের স্বার্থে এসব তথ্য গোপন রেখে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তবে একাধিক প্রশ্নের উত্তর তিনি কৌশলে এড়িয়ে গেছেন এবং নীরবতা পালন করেছেন।

মামলার আরেক সন্দিগ্ধ আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপও বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রিমান্ডে রয়েছেন। দিশা ও দীপের দেওয়া বক্তব্যের মধ্যে মিল-অমিল যাচাই করতে দুজনের বক্তব্য পরস্পরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া নিহত তাহসিফের মোবাইল ফোনের কললিস্ট পর্যালোচনায় দিশার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তদন্তে এ হত্যাকাণ্ডে দিশার সংশ্লিষ্টতার তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।

পুনরায় রিমান্ডের প্রয়োজন হতে পারে

তদন্ত কর্মকর্তার আশঙ্কা, জামিনে মুক্তি পেলে দিশা পলাতক হয়ে মামলার তদন্তে বিঘ্ন ঘটাতে পারেন। হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন ও সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনে তাকে আবারও রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হতে পারে। এ কারণে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়।

এর আগে গত ৩১ অক্টোবর রাত ২টার দিকে রাজধানীর কাফরুল এলাকা থেকে দিশাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ১ নভেম্বর আদালত তার চার দিনের এবং ৪ নভেম্বর আরও তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

যেভাবে নিখোঁজ হন তাহসিফ

মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় বন্ধু দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন তাহসিফ। পরদিন বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ।

এ ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে ৩০ অক্টোবর রাতে রাজধানীর উত্তরখান থানায় হত্যা মামলা করেন তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। পরে এ মামলায় দীপ ও দিশাকে সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ।

তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত, তা উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।





কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad