কারা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল মেসবাহুল আলম সেলিম জানিয়েছেন, নির্দেশনাগুলোর অন্তত ৯০ শতাংশ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে এসব উদ্যোগের সুফল দৃশ্যমান হবে বলে আশা করছে অধিদপ্তর।
তিনি বলেন, নির্দেশনার কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে সারাদেশের প্রতিটি কারাগারে প্রতিদিন তদারকি করা হচ্ছে। পাশাপাশি কারাগারগুলোকে নিয়মিতভাবে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে বাস্তবায়ন পরিস্থিতি ও মতামত জমা দিতে বলা হয়েছে। নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অধিদপ্তরের অপারেশনাল শাখাকে।
এ ছাড়া কারাগারগুলো পর্যবেক্ষণের জন্য ডেপুটি জেলারসহ অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব পালনে অবহেলার দায়ে দোষী সাব্যস্ত কারা কর্মীদের এক কারাগার থেকে অন্য কারাগারে বদলির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
লকআপের পরবর্তী কার্যক্রমে কঠোর নিয়ন্ত্রণ
নির্দেশনা অনুযায়ী, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া লকআপের পরবর্তী কার্যক্রম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া এ ধরনের কার্যক্রম নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। কোনো ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে জেলারের লিখিত অনুমোদন, নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং সংশ্লিষ্ট রেজিস্টারে বাধ্যতামূলকভাবে তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে।
২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি নজরদারি
প্রতিটি কারাগারে সার্বক্ষণিক সিসিটিভি নজরদারি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সম্ভব হলে পৃথক পর্যবেক্ষণ কক্ষ স্থাপন এবং প্রশিক্ষিত ও তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ কারারক্ষীদের দায়িত্ব দিতে বলা হয়েছে। পর্যবেক্ষণ কক্ষ স্থাপনের সুযোগ না থাকলে উপযুক্ত স্থানে মনিটর বসিয়ে নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।
অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগে শূন্য সহনশীলতা
নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত কোনো প্রহরী বা পাহারাদার কর্মী অনুমতি ছাড়া নির্ধারিত স্থান ত্যাগ করতে পারবেন না। এ ধরনের ঘটনা নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে লিখিত প্রতিবেদন দিতে হবে এবং প্রচলিত বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
একই সঙ্গে দায়িত্বে অবহেলা কিংবা অননুমোদিত অনুপস্থিতির ঘটনা গোপন করা, প্রতিবেদন দিতে বিলম্ব করা অথবা দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।
অবহেলাকারীদের পুনঃপ্রশিক্ষণ ও কাউন্সেলিং
দায়িত্ব পালনে বারবার অবহেলার অভিযোগ পাওয়া কর্মীদের জন্য পুনঃপ্রশিক্ষণ, কাউন্সেলিং ও অনুপ্রেরণামূলক কার্যক্রমের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রশাসনিক প্রয়োজন ও পরিস্থিতি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বদলি কিংবা প্রচলিত বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।
প্রতিকূল আবহাওয়ায় বিশেষ নিরাপত্তা
বৃষ্টি, বজ্রপাতসহ প্রতিকূল আবহাওয়ায় কারাগারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রহরীদের নির্ধারিত অবস্থানে থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
এ ছাড়া কারাগারের সুপারিনটেনডেন্ট, জেলার ও অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়মিত তত্ত্বাবধানের পাশাপাশি আকস্মিক পরিদর্শন করতে বলা হয়েছে। পরিদর্শনের সময় নিরাপত্তা চৌকি, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, প্রহরীদের দায়িত্ব পালন এবং সামগ্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থা পরীক্ষা করতে হবে। কোনো ত্রুটি পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
কারা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত আগস্টে জারি করা সাত দফা নির্দেশনায় কারাগারের অভ্যন্তরে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কা এবং এর ফলে কারা প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তার ঘাটতি দূর করা, প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক