শুক্রবার সকাল থেকেই জেলেদের মাছভর্তি নৌকা একের পর এক ভিড়তে থাকে পোর্টরোডের মোকাম ও বিভিন্ন মাছঘাটে। মেঘনা, সুগন্ধা, সন্ধ্যা, আড়িয়াল খাঁ, কীর্তনখোলাসহ বিভাগের বিভিন্ন নদ-নদীতে মাছ ধরতে নেমেছেন হাজারো জেলে। দীর্ঘ বিরতির পর তাঁদের জালে ইলিশের পাশাপাশি পাঙ্গাশসহ নানা প্রজাতির মাছও ধরা পড়ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে বরিশালের মেঘনা, কালাবদর, সুগন্ধা, সন্ধ্যা, জয়ন্তী, আড়িয়াল খাঁ ও কীর্তনখোলাসহ বিভিন্ন নদীতে মাছ শিকার শুরু করেন জেলেরা। শুক্রবার ভোর থেকে মাছ নিয়ে তাঁরা ঘাটে ফিরতে থাকেন। মেঘনার হিজলা উপজেলার হরিনাথপুর এবং নগরীর পোর্টরোডের মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে নৌকা ভেড়ার পর শুরু হয় মাছ বেচাকেনা।
সরবরাহ বাড়লেও দাম চড়া
পোর্টরোডের আড়তে মাছ নিয়ে আসা জেলে রহিম শেখ বলেন, কয়েকজন মিলে রাত ১২টার পর নদীতে মাছ ধরতে নেমেছিলেন। ভালো পরিমাণ মাছ পেয়েছেন। এক দিনে ২০ হাজার টাকার মাছ বিক্রি করেছেন। রাতে আবার নদীতে মাছ ধরতে যাবেন।
আড়তদার জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, নিষেধাজ্ঞা শেষে প্রথম দিনে মোকামে বেশ ভালো পরিমাণ ইলিশ এসেছে। তবে ক্রেতা ও চাহিদা বেশি থাকায় দাম কমেনি।
তিনি জানান, বর্তমানে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ টাকা কেজি দরে। এলসি সাইজের ইলিশের দাম কেজিপ্রতি ১ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার টাকা। ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা কেজি দরে। আর ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম ওজনের ছোট ইলিশের দাম প্রতি হালি ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকা।
ইলিশের পাশাপাশি পাঙ্গাশও উঠছে
জাহাঙ্গীর হোসেন আরও জানান, ইলিশের পাশাপাশি জেলেদের জালে পাঙ্গাশও ধরা পড়ছে। বড় আকারের পাঙ্গাশ প্রতি কেজি ১ হাজার ২০০ টাকা এবং ছোট আকারের পাঙ্গাশ ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
মোকামে ইলিশের সরবরাহ আরও বাড়লে বাজারদরে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে প্রথম দিনের বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় ইলিশের দাম এখনো ক্রেতাদের নাগালের বাইরে রয়েছে।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক