বিশেষজ্ঞদের মতে, অপারেটরদের আর্থিক সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি গ্রাহকসেবার মান উন্নয়নের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করতে হবে। তরঙ্গের দাম কমানো কিংবা কিস্তিতে মূল্য পরিশোধের সুবিধার সুফল গ্রাহকদেরও দিতে হবে। অন্যথায় এসব সুবিধার প্রকৃত সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে না।
অভিযোগের শীর্ষে সেবার মানবিটিআরসির ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত মোবাইল সেবা নিয়ে ২৩টি ক্যাটাগরিতে মোট ১১ হাজার ৬৬৭টি অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে সেবার মান বা ‘কোয়ালিটি অব সার্ভিস’ নিয়ে ৪ হাজার ১৬২টি অভিযোগ ছিল।
এ ছাড়া বিবিধ বিষয়ে ১ হাজার ৩৪৩টি, মূল্য সংযোজন সেবা (ভ্যাস) নিয়ে ৯২৮টি, ডেটার গতি নিয়ে ৭৩৬টি এবং কল ও এসএমএস-সংক্রান্ত বিষয়ে ৫৩৯টি অভিযোগ করেন গ্রাহকরা।
বিটিআরসি জানায়, এসব অভিযোগের মধ্যে ১১ হাজার ৩৬২টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। অনিষ্পন্ন রয়েছে ৩০৫টি।
তিন অর্থবছর ধরেই অভিযোগ ১১ হাজারের বেশিবিটিআরসির পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোবাইল সেবা নিয়ে ১১ হাজার ৪২৭টি অভিযোগ জমা পড়েছিল। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয় ১০ হাজার ৩১১টি। এর আগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১১ হাজার ২২৫টি অভিযোগের বিপরীতে নিষ্পত্তি করা হয় ৮ হাজার ৯২০টি।
অর্থাৎ টানা তিন অর্থবছর ধরেই মোবাইল সেবা নিয়ে অভিযোগের সংখ্যা ১১ হাজারের বেশি। প্রতিবারই অভিযোগের তালিকায় শীর্ষে ছিল সেবার মান।
সুবিধার পাশাপাশি জবাবদিহি নিশ্চিতের দাবিমুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশের গ্রাহকরা অনেকটা মোবাইল অপারেটরদের কাছে জিম্মি। সরকার থেকে নানা সুযোগ-সুবিধা পেলেও অপারেটররা গ্রাহকদের মানসম্মত সেবা দিতে পারছে না। বিপুল মুনাফার বিপরীতে গ্রাহকদের কলড্রপ, দুর্বল নেটওয়ার্ক ও ধীরগতির ইন্টারনেটের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, তরঙ্গের দাম কমানো ও কিস্তিতে মূল্য পরিশোধের সুবিধা দেওয়া হলে এর সুফল গ্রাহকদেরও দিতে হবে। নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, কলড্রপ কমানো এবং সাশ্রয়ী দামে মানসম্মত ইন্টারনেট নিশ্চিত করার শর্ত আরোপ করতে হবে। শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে ছাড় প্রত্যাহারসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
সেবার মান নিয়ে গ্রাহকদের অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশের (এমটব) সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক