লোকসানের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আগাম আলু চাষে ব্যস্ত ক্ষেতলালের কৃষক

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৩ বিকাল
  • ৪৯৮৭ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তা, ন্যায্য দাম পাওয়ার প্রত্যাশা গত বছরের লোকসানের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার আশায় জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে আগাম আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে আগাম জাতের আলু রোপণ। তবে বীজ, সার, জ্বালানি ও শ্রমিকের মজুরি বাড়ায় এবারও উৎপাদন খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তাঁরা।

আমন ধান ও অন্যান্য ফসল কাটার পর জমি ফেলে না রেখে বাড়তি আয়ের আশায় আগাম আলু চাষ করছেন কৃষকেরা। বছরের এ সময়ে বাজারে আলুর সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকায় আগাম আলু ভালো দামে বিক্রির সম্ভাবনা থাকে। এ আশায় প্রতি বছর অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে চাষ শুরু করেন তাঁরা।

কৃষকদের ভাষ্য, গত বছর প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় অনেককে বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হয়েছে। সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এবার আবারও আলু চাষে নেমেছেন তাঁরা। তবে উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দাম না পেলে এবারও লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে।

বীজসহ বেড়েছে উৎপাদন খরচ

কৃষকেরা জানান, গত বছর যে বীজ ১ হাজার ২০০ টাকায় কেনা হয়েছিল, এবার তা কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ টাকায়। পাশাপাশি সার, ডিজেলসহ জ্বালানি এবং শ্রমিকের মজুরিও বেড়েছে। সার সংগ্রহে পরিচয়পত্র ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা নিয়েও কিছু ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন তাঁরা।

স্থানীয় কৃষক রফিকুল ও গোলাম মাওলাসহ অনেকে জানান, গত বছরের লোকসানের ধকল এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি। তবু জমি অনাবাদি না রেখে আগাম আলু চাষ করছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো ফলনের আশা করছেন তাঁরা। তবে বাজারে ন্যায্য দাম না পেলে সেই আশা আবারও হতাশায় পরিণত হতে পারে।

কৃষিকাজে বেড়েছে শ্রমিকের ব্যস্ততা

আগাম আলু রোপণ ঘিরে এলাকার গ্রামীণ শ্রমবাজারেও কর্মচাঞ্চল্য বেড়েছে। আমন ধান কাটার পর জমি প্রস্তুত, আলু রোপণ ও পরিচর্যার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকেরা। এতে কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত শ্রমজীবী মানুষের সাময়িক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

১২ হেক্টর জমিতে আলু রোপণ

ক্ষেতলাল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জসিম উদ্দীন বলেন, গত সপ্তাহ থেকে উপজেলায় আগাম জাতের আলু চাষ শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ১২ হেক্টর জমিতে আলু রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। আগাম জাতের আলু ৫০ থেকে ৫৫ দিনের মধ্যে উত্তোলন করা যায়।

কৃষি বিভাগের পরামর্শ মেনে চাষাবাদ করলে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কৃষকদের প্রত্যাশা, অনুকূল আবহাওয়ায় ভালো ফলনের পাশাপাশি বাজারে আলুর ন্যায্য দাম নিশ্চিত হবে। এতে গত বছরের লোকসান পুষিয়ে নিয়ে সংসারে আর্থিক স্বস্তি ফেরাতে পারবেন তাঁরা।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad