পাঠ্যবইয়ে দাঁড়িপাল্লা বিতর্কের মধ্যে এনসিটিবির কর্মকর্তাকে খাগড়াছড়িতে বদলি

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩৪ বিকাল
  • ২৮৫৭ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত
ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বই থেকে প্রতীক পরিবর্তনের উদ্যোগ, ছাপা বন্ধের নির্দেশ; মাঠে পাঠানো বইও সংশোধন করবে এনসিটিবি

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহার নিয়ে বিতর্কের মধ্যে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) এক কর্মকর্তাকে খাগড়াছড়িতে বদলি করা হয়েছে। রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলির তথ্য জানানো হয়।

বদলি হওয়া কর্মকর্তা মু. আব্দুল্লাহ আল জোবায়ের এনসিটিবিতে প্রেষণে গবেষণা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁকে খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রভাষক হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

২৯ অক্টোবরের মধ্যে অবমুক্তির নির্দেশ

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের ওই কর্মকর্তাকে নিজ বেতন ও বেতনক্রমে নতুন কর্মস্থলে বদলি বা পদায়ন করা হয়েছে। তাঁকে আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবমুক্ত না হলে ওই দিন বিকেল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত হয়েছেন বলে গণ্য হবেন।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে নিজস্ব পিডিএসে লগইন করে অবমুক্তি ও যোগদানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে।

তবে পাঠ্যবইয়ে দাঁড়িপাল্লার ছবি নিয়ে বিতর্কের সঙ্গে ওই কর্মকর্তার বদলির কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, প্রকাশিত তথ্যে তা স্পষ্ট করা হয়নি।

বিতর্কের পর বইয়ের প্রতীক পরিবর্তনের উদ্যোগ

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ে দাঁড়িপাল্লার ছবি নিয়ে বিতর্কের পর প্রতীকটি পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয় এনসিটিবি। এর অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে বইটির ছাপার কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এনসিটিবির প্রধান সম্পাদক অধ্যাপক মো. রিয়াজুল ইসলাম জানিয়েছেন, মাঠপর্যায়ে পাঠানো বইগুলো সংগ্রহ করে প্রতীকটি পরিমার্জনের পর আবার শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। আপাতত বইটির মুদ্রণ বন্ধ রাখা এবং ইতিমধ্যে পাঠানো বই সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জ্ঞানের পিরামিডে দাঁড়িপাল্লার ব্যবহার

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের ‘উপাত্ত ও তথ্য’ অধ্যায়ে জ্ঞানের পিরামিডের ধারণা তুলে ধরা হয়েছে। পিরামিডটিতে নিচ থেকে ওপরের দিকে উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা—এই চারটি স্তর দেখানো হয়েছে।

প্রতিটি স্তর বোঝাতে আলাদা প্রতীক ব্যবহার করা হয়েছে। উপাত্তের স্তরে রয়েছে পাই চার্ট বা ঘড়ির মতো দেখতে বৃত্তাকার প্রতীক, তথ্যের স্তরে পরমাণু বা নেটওয়ার্কের মতো একটি প্রতীক এবং জ্ঞানের স্তরে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি। সর্বোচ্চ স্তর প্রজ্ঞা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়েছে দাঁড়িপাল্লার ছবি।

এই প্রতীক ব্যবহার নিয়েই বিতর্কের সূত্রপাত হয়। পরে বই থেকে ছবিটি পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয় এনসিটিবি।

ছাপা বই সংশোধনে বাড়তি খরচের আশঙ্কা

এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের প্রায় ৩৮ লাখ কপি ছাপানো হচ্ছে। এর বেশির ভাগের মুদ্রণ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য সব শ্রেণি মিলিয়ে প্রায় ৩১ কোটি বই ছাপানোর কাজ চলছে।

মুদ্রণমালিকদের ভাষ্য, আইসিটি বইটির ছাপা, বাঁধাই ও সরবরাহের কাজ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। ফলে মাঠপর্যায়ে পাঠানো বই সংগ্রহ করে সংশোধন করতে হলে বাড়তি সময় ও খরচের প্রয়োজন হবে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad