শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের জয়ালভাঙ্গা এলাকায় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রসংলগ্ন পায়রা নদীর তীরে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ‘পায়রা নদী ইলিশ রক্ষা কমিটি’ আয়োজিত মানববন্ধনে স্থানীয় দুই শতাধিক বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী জেলে অংশ নেন।
নদীতে বর্জ্য ফেলার অভিযোগ
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বরিশাল ৩৫০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বর্জ্য নির্ধারিত নিয়মে অপসারণের কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। বর্জ্য অপসারণের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরিবেশসম্মত নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য না ফেলে অটোরিকশা ও নৌকায় করে নদীতে ফেলছে।
তাঁদের দাবি, এসব বর্জ্যের কারণে নদীর পানি দূষিত হচ্ছে। এর প্রভাবে ইলিশসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ছে। নদীতে মাছ কমে যাওয়ায় স্থানীয় জেলেরা আর্থিক সংকটে পড়ছেন এবং তাঁদের জীবিকার প্রধান উৎস ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
স্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্য নিয়ে উদ্বেগ
বক্তারা বলেন, নদীতীরের বাসিন্দাদের অনেকে বাধ্য হয়ে দূষিত পানি ব্যবহার করছেন। এতে চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ছে বলে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
এ ছাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে নির্গত কালো ধোঁয়ায় টেংরাগিরি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের জীববৈচিত্র্য, স্থানীয় কৃষি ও জনস্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।
মানববন্ধনে ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’ (ধরা) ও ‘ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ’-এর তালতলী শাখার সমন্বয়ক আরিফুর রহমান সঞ্চালনা করেন। বক্তব্য দেন পায়রা নদী ইলিশ রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব বাবুল হাওলাদার, কামাল চৌকিদার, সুলতান মিয়াসহ স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী জেলেরা। তাঁরা নদী, পরিবেশ ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানান।
অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস
এ বিষয়ে তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতীশ সরকার বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিবেশ নষ্ট করে এবং নদীর পানি দূষিত করে কাউকে কোনো ধরনের অপকর্ম করতে দেওয়া হবে না। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তথ্যসূত্র: উপজেলা প্রতিনিধি, তালতলী (বরগুনা); প্রকাশিত ১৭ অক্টোবর ২০২৬।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক