প্রচণ্ড গরম ও তীব্র রোদে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। দীর্ঘ সময় রোদে থাকলে পানিশূন্যতা, অতিরিক্ত ক্লান্তি ও হিট এক্সহস্টশনের ঝুঁকি বাড়ে। গুরুতর অবস্থায় দেখা দিতে পারে হিটস্ট্রোক, যা জীবনহানির কারণও হতে পারে। তাই গরমের সময় সুস্থ ও সতেজ থাকতে পর্যাপ্ত পানি পান, উপযুক্ত পোশাক পরা এবং সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলাসহ কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।
বাংলাদেশের মতো উষ্ণ আবহাওয়ার দেশে গরমের সময় দৈনন্দিন কাজে বাইরে বের হতে হয় অনেককেই। তবে কয়েকটি সহজ অভ্যাস গড়ে তুললে তাপজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
১. পর্যাপ্ত পানি পান করুনগরমে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে পানি বেরিয়ে যায়। এ কারণে নিয়মিত পানি পান করা জরুরি। তৃষ্ণা পাওয়ার অপেক্ষা না করে বিরতিতে বিরতিতে পানি পান করুন। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে সঙ্গে পানির বোতল রাখুন। বেশি ঘাম হলে শরীরের পানির পাশাপাশি লবণের ঘাটতিও তৈরি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার স্যালাইন বা ওআরএস গ্রহণ করা যেতে পারে। তবে অকারণে অতিরিক্ত লবণ-চিনি মেশানো পানীয় পান করা উচিত নয়।
২. তীব্র রোদ এড়িয়ে চলুনদিনের যে সময়ে রোদ ও তাপমাত্রা বেশি থাকে, সে সময় বাইরে যাওয়া যথাসম্ভব সীমিত রাখুন। বিশেষ করে দুপুর থেকে বিকেলের শুরু পর্যন্ত কাজের সময়সূচি পরিবর্তন করা সম্ভব হলে তা করুন। বাইরে যেতে হলে ছায়াযুক্ত পথ বেছে নিন এবং মাঝেমধ্যে ঠান্ডা জায়গায় বিশ্রাম নিন।
৩. হালকা ও ঢিলেঢালা পোশাক পরুনগরমে হালকা রঙের, ঢিলেঢালা ও বাতাস চলাচল করতে পারে—এমন কাপড় পরা আরামদায়ক। বাইরে গেলে টুপি বা ক্যাপ দিয়ে মাথা ঢেকে রাখুন। ছাতা ব্যবহার করলে সরাসরি রোদ থেকে কিছুটা সুরক্ষা পাওয়া যায়। চোখের সুরক্ষায় উপযুক্ত সানগ্লাসও ব্যবহার করতে পারেন।
৪. ত্বকে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুনসূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বক রক্ষায় ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন ব্যবহার করা যেতে পারে। বাইরে যাওয়ার আগে পণ্যের নির্দেশনা অনুযায়ী এটি লাগান এবং দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে নির্দেশনা অনুসারে পুনরায় ব্যবহার করুন। ছাতা, টুপি ও ঢেকে রাখা পোশাকও ত্বকের সুরক্ষায় সহায়ক।
৫. হালকা ও পানিসমৃদ্ধ খাবার খানগরমে সুষম ও সহজপাচ্য খাবার বেছে নিন। খাবারের তালিকায় শাকসবজি, ফলমূল, ডালসহ পুষ্টিকর খাবার রাখুন। তরমুজ, শসা ও অন্যান্য পানিসমৃদ্ধ ফল শরীরের তরলের চাহিদা পূরণে সহায়তা করে। অতিরিক্ত ভারী খাবার খেলে অস্বস্তি হলে খাবারের পরিমাণ ও ধরন সামঞ্জস্য করুন।
৬. অতিরিক্ত পরিশ্রম থেকে বিরত থাকুনতীব্র গরমে ভারী কাজ বা ব্যায়াম করলে শরীর দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে যেতে পারে। প্রয়োজন হলে কাজের গতি কমান, ঘন ঘন বিরতি নিন এবং ছায়াযুক্ত স্থানে বিশ্রাম করুন। মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, বমি বমি ভাব বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি দেখা দিলে কাজ বন্ধ করে ঠান্ডা জায়গায় যান।
৭. ঘর ঠান্ডা ও পরিচ্ছন্ন রাখুনঘরে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন। দিনের বেলায় সরাসরি রোদ ঢোকে এমন জানালায় পর্দা ব্যবহার করতে পারেন। সম্ভব হলে ফ্যান বা অন্য শীতলীকরণ ব্যবস্থা ব্যবহার করুন। নিয়মিত গোসল ও পরিষ্কার পোশাক পরা শরীরকে আরামদায়ক রাখতে সাহায্য করে।
৮. শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বাড়তি নজর দিনশিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের গরমে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। তাঁদের নিয়মিত পানি পান, রোদে চলাচল সীমিত রাখা এবং ঠান্ডা পরিবেশে থাকার ব্যবস্থা করুন। বাইরে থাকলে তাঁদের শারীরিক অবস্থার দিকে নজর রাখুন।
হিটস্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে কী করবেন?প্রচণ্ড গরমে বিভ্রান্তি, অস্বাভাবিক আচরণ, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা শরীরের তাপমাত্রা অত্যধিক বেড়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে হিটস্ট্রোকের আশঙ্কা করতে হবে। এটি একটি জরুরি চিকিৎসাজনিত অবস্থা।
এমন পরিস্থিতিতে আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত ছায়াযুক্ত বা ঠান্ডা স্থানে নিয়ে গিয়ে শরীর ঠান্ডা করার ব্যবস্থা করুন এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা নিন। ব্যক্তি অচেতন বা বিভ্রান্ত থাকলে মুখে পানি বা অন্য কিছু খাওয়ানোর চেষ্টা করবেন না। চিকিৎসা নিতে দেরি করা বিপজ্জনক হতে পারে।
প্রচণ্ড রোদে সুস্থ থাকতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শরীরের সংকেত বুঝে চলা, পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ, তীব্র গরমে পরিশ্রম কমানো এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নেওয়া। সচেতন অভ্যাসই গরমজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক