মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) আবুধাদিতে চলমান টেস্টের পঞ্চম দিনে আফগানিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে ইকরাম আলীখিলের ক্যাচ নেন লিটন। ডান দিকে ঝাঁপিয়ে নেওয়া দুর্দান্ত ওই ক্যাচে তার ডিসমিসালের সংখ্যা দাঁড়ায় ৯-এ।
ভাঙলেন ২২ বছরের পুরোনো বাংলাদেশি রেকর্ডআফগানিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে এর আগের দিনই উইকেটের পেছনে তিনটি ক্যাচ নিয়েছিলেন লিটন। তাতেই বাংলাদেশের সাবেক উইকেটকিপার খালেদ মাসুদ পাইলটের ২২ বছরের পুরোনো রেকর্ড ছাড়িয়ে যান তিনি।
২০০৪ সালে হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এক টেস্টে ৭টি ডিসমিসাল করেছিলেন খালেদ মাসুদ। এত দিন বাংলাদেশের উইকেটকিপারদের মধ্যে সেটিই ছিল এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ডিসমিসালের রেকর্ড। লিটন সেই রেকর্ড ভেঙে এখন নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছেন।
ব্যাট হাতেও দুর্দান্ত লিটনচলমান টেস্টে ব্যাট হাতেও উজ্জ্বল লিটন। প্রথম ইনিংসে অর্ধশতক করে চার ইনিংসের রানখরা কাটান তিনি। তার ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশও তিনশ রানের গণ্ডি পেরোয়।
দ্বিতীয় ইনিংসে আরও বড় অবদান রাখেন এই উইকেটকিপার-ব্যাটার। দুর্দান্ত এক শতক তুলে নিয়ে দলকে বড় লিড এনে দেন তিনি। এ ইনিংসের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের পঞ্চম ব্যাটার হিসেবে ৯ হাজার রানের মাইলফলকও স্পর্শ করেন লিটন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেঞ্চুরির সংখ্যায় মোহাম্মদ আশরাফুলকে ছাড়িয়ে যান তিনি।
বিশ্বরেকর্ডের সামনে লিটনটেস্ট ক্রিকেটে এক ম্যাচে উইকেটকিপারের সর্বোচ্চ ডিসমিসালের বিশ্বরেকর্ড ১১টি। এই কীর্তির যৌথ মালিক ইংল্যান্ডের জ্যাক রাসেল, দক্ষিণ আফ্রিকার এবি ডি ভিলিয়ার্স ও ভারতের ঋষভ পন্ত।
১৯৯৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১১টি ডিসমিসাল করেন জ্যাক রাসেল। ২০১৩ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে একই কীর্তি গড়েন এবি ডি ভিলিয়ার্স। আর ২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১১টি ডিসমিসাল নিয়ে এই তালিকায় নাম লেখান ঋষভ পন্ত।
লিটনের বর্তমান ডিসমিসালের সংখ্যা ৯। ফলে বিশ্বরেকর্ড স্পর্শ করতে আরও দুটি এবং এককভাবে রেকর্ড গড়তে আরও তিনটি ডিসমিসাল প্রয়োজন তার। টেস্টের বাকি সময়ে আরও ক্যাচ বা স্টাম্পিং করতে পারলে নতুন ইতিহাস গড়ার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের এই তারকার।
ব্যাটিং ও উইকেটকিপিং—দুই বিভাগেই লিটনের এমন পারফরম্যান্স বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, ম্যাচের শেষ পর্যায়ে তিনি বিশ্বরেকর্ডের সেই মাইলফলক স্পর্শ করতে পারেন কি না।

প্রথম দর্পণ,স্পোর্টস ডেক্স