বুধবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত সাময়িক হিসাবে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
শিল্প ও সেবা খাতে গতিবিবিএসের হিসাবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চতুর্থ প্রান্তিকে চলতি মূল্যে দেশের জিডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ১১ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের এপ্রিল-জুন সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১৪ লাখ ৩৮ হাজার ৫২৭ কোটি টাকা।
প্রান্তিকভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ। দ্বিতীয় প্রান্তিকে তা কমে ৩ দশমিক ০৩ শতাংশ এবং তৃতীয় প্রান্তিকে ২ দশমিক ২২ শতাংশে নেমে যায়। শেষ প্রান্তিকে এসে প্রবৃদ্ধি আবার বেড়ে ৪ দশমিক ৬০ শতাংশ হয়েছে।
শেষ প্রান্তিকে সবচেয়ে বেশি গতি দেখা গেছে শিল্প খাতে। স্থির মূল্যে এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৫২ শতাংশ। আগের অর্থবছরের একই সময়ে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র শূন্য দশমিক ৯২ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে শিল্পের প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ৫ দশমিক ৬০ শতাংশীয় পয়েন্ট।
তবে পুরো অর্থবছরে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধিতে ওঠানামা ছিল। প্রথম তিন প্রান্তিকে এ খাতের প্রবৃদ্ধি ছিল যথাক্রমে ৬ দশমিক ৮২, ১ দশমিক ২৭ এবং ঋণাত্মক শূন্য দশমিক ২৮ শতাংশ।
সেবা খাতেও শেষ প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। এপ্রিল-জুন সময়ে এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ২৮ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ২ দশমিক ২৬ শতাংশ। অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি ছিল যথাক্রমে ৪ দশমিক ৫১, ৪ দশমিক ৪৫ ও ৩ দশমিক ৫২ শতাংশ।
কৃষিতে বিপরীত চিত্রশিল্প ও সেবা খাতে গতি ফিরলেও কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি কমেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চতুর্থ প্রান্তিকে কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১ দশমিক ৭৩ শতাংশ। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ হার ছিল ৩ দশমিক ১৯ শতাংশ। ফলে এক বছরের ব্যবধানে কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি কমেছে ১ দশমিক ৪৬ শতাংশীয় পয়েন্ট।
অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি ছিল যথাক্রমে ২ দশমিক ১১, ৩ দশমিক ৬৮ ও ১ দশমিক ৭৪ শতাংশ। এর আগের অর্থবছরের একই প্রান্তিকগুলোতে এ খাতের প্রবৃদ্ধি ছিল যথাক্রমে ঋণাত্মক শূন্য দশমিক ১২, ১ দশমিক ৯০ ও ৪ দশমিক ৬১ শতাংশ।
বিবিএসের চার প্রান্তিকের সাময়িক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে স্থির মূল্যে দেশের বার্ষিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ। শেষ প্রান্তিকে শিল্প ও সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি বাড়লেও কৃষির মন্থরতা পুরো অর্থবছরের সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলেছে।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক