ঢাকায় অনুমোদনহীন ভবন চিহ্নিত করা হচ্ছে: গণপূর্তমন্ত্রী

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫১ বিকাল
  • ১৪৯৩ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg গণপূর্তমন্ত্রী
রাজধানী ঢাকায় অনুমোদিত নকশা ছাড়া নির্মিত ভবনগুলো চিহ্নিত করার কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। তিনি বলেন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) আওতাধীন ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন এলাকায় নকশা অনুমোদন দেওয়া হলেও অনেক ভবন অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী নির্মাণ করা হয়নি। এসব ভবন এখন শনাক্ত করা হচ্ছে।

বুধবার রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে আয়োজিত ‘স্মার্ট সিটি কনক্লেভ ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দৈনিক বণিক বার্তা আয়োজিত এ কনক্লেভে স্মার্ট আবাসন, টেকসই নগরায়ণ এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের নগর ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়।

১০ বছরের পরিকল্পনা

গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, আরবান ডেভেলপমেন্ট ডাইরেক্টরেটের (ইউডিডি) মাধ্যমে প্রথমবারের মতো প্রায় ১০ বছর মেয়াদি একটি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় প্রথমে মেট্রোপলিটন শহরগুলোকে পরিকল্পনার মধ্যে আনা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে বড় শহর থেকে উপজেলা পর্যন্ত মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন করা হবে।

তিনি বলেন, কোথায় কী ধরনের স্থাপনা বা কার্যক্রম হওয়া উচিত, তা নির্ধারণে জোনিং করা হবে। সুনির্দিষ্ট মাস্টার প্ল্যান ছাড়া উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা অনেকটা লক্ষ্য না দেখে তীর ছোড়ার মতো। এ কারণে ইউডিডিকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, সঠিক পরিকল্পনার জন্য পর্যাপ্ত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্ত প্রয়োজন। সর্বশেষ জনশুমারি অনেক আগের হওয়ায় নতুন করে একটি সঠিক শুমারি করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নকশা অনুমোদনে নতুন ব্যবস্থা

জাকারিয়া তাহের জানান, ‘বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি অথরিটি’ নিয়ে কাজ চলছে। এর আওতায় স্থাপত্য, কাঠামোগত ও বৈদ্যুতিক পরিকল্পনাসহ ভবনের সামগ্রিক নকশা অনুমোদনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, অনুমোদনের পর ভবন নির্মাণ শেষ হলে অকুপেন্সি সার্টিফিকেট বা ব্যবহার সনদ নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ডিজাইনারকে ভবনটি অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী নির্মিত হয়েছে বলে প্রত্যয়ন করতে হবে।

গুলশান-বনানীর ৭০-৮০ শতাংশ বাড়িতে সমস্যা

গুলশান ও বনানীর আবাসিক এলাকার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এসব এলাকায় প্রায় ৪ হাজার ৩০০টি বাড়িঘর রয়েছে। এর মধ্যে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ বাড়িতে নকশা অনুযায়ী সেফটি ট্যাংক ও সোকওয়েল থাকার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি।

এমনকি নামিদামি ডেভেলপারদের নির্মিত কিছু ভবনেও সুয়ারেজের সংযোগ স্টর্ম ওয়াটার ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি।

এসব বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে গুলশান, বনানী ও বারিধারা সোসাইটির সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করা হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘গুলশান-বারিধারার লেকই যদি আমরা ঠিক করতে না পারি, সারা দেশ কীভাবে ঠিক করব?’

স্মার্ট ও টেকসই নগরায়ণে গুরুত্ব

কনক্লেভে দেশের আবাসন ও নির্মাণ খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, পরিকল্পিত নগরায়ণ, স্মার্ট ও সবুজ আবাসন, আবাসন খাতে অর্থায়ন, নির্মাণে দেশীয় সক্ষমতা এবং জ্বালানি রূপান্তরে এলপিজি ও সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

অনুষ্ঠানে রাজউক চেয়ারম্যান মো. রিয়াজুল ইসলাম (রেজু), বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. ইশতিয়াক আহমেদ, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোসা. ফেরদৌসী বেগমসহ আবাসন, নির্মাণ ও নগর পরিকল্পনা খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।

তথ্যসূত্র: ‘স্মার্ট সিটি কনক্লেভ ২০২৬’-এ গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরের বক্তব্য।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad