শাহজাহানপুরে ফরহাদ হত্যায় বোন-ভগ্নিপতি ৩ দিনের রিমান্ড

  • প্রথম দর্পণ,জাতীয় ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৮ রাত
  • ৪৯৬২ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর শাহজাহানপুরে মোহাম্মদ ফকরুল হাসান ফরহাদ (৪৪) নামে এক ব্যক্তিকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় তাঁর বড় বোন ও ভগ্নিপতিকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) শাহজাহানপুর থানা পুলিশ। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি, লাল রঙের হেলমেট ও ঘটনার সময় পরিহিত পোশাক উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

পুলিশ জানায়, বুধবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত সাড়ে ৯টার মধ্যে উত্তর শাহজাহানপুরের একটি বাসায় ফকরুল হাসান ফরহাদকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাঁর স্ত্রী বাসায় ফিরে মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে শাহজাহানপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আইনগত কার্যক্রম শুরু করে। পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) সদস্যদের সহায়তায় ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করা হয়।

ঘটনার পর পুলিশ আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করে। এতে লাল রঙের হেলমেট পরা এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে ঘটনাস্থলসংলগ্ন এলাকায় চলাচল করতে দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে ওই ব্যক্তির পরিচয় ও অবস্থান শনাক্ত করা হয়।

পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাজধানীর তোপখানা রোডের একটি অফিস থেকে নিহতের ভগ্নিপতি আব্দুস সামাদ সুজন (৫৮)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি লাল রঙের হেলমেট, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি ও ঘটনার সময় পরিহিত পোশাক উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা পোশাকটি ধোয়া অবস্থায় পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে রক্তের নমুনা, হাতের নখের সোয়াব, মোবাইল ফোন, সিগারেটের বাটসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব আলামত প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক ও ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিহতের বড় বোন নুর আফসানা নিপা (৪৫) ও ভগ্নিপতি আব্দুস সামাদ সুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালত তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বাসাটির দখল, সেখানে বসবাস, গ্যাস-পানির বিল পরিশোধসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নিহতের সঙ্গে তাঁর বোন ও ভগ্নিপতির বিরোধ ছিল। এ ছাড়া পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এসব বিরোধকে হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচনা করছে পুলিশ।

তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, এর পেছনে কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছিল কি না এবং প্রত্যেক আসামির সুনির্দিষ্ট ভূমিকা কী—এসব বিষয় এখনো তদন্তাধীন। ফরেনসিক প্রতিবেদন ও অন্যান্য সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় শাহজাহানপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, উদ্ধার করা অস্ত্র ও অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad