নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সিলেট বিভাগীয় কমিটির সেপ্টেম্বর মাসের সড়ক দুর্ঘটনা বিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। রোববার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে সিলেট জেলায় আটটি দুর্ঘটনায় সাতজন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন। সুনামগঞ্জে চারটি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন দুজন, আহত ২৩ জন। মৌলভীবাজারে নয়টি দুর্ঘটনায় ১১ জন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন। আর হবিগঞ্জে পাঁচটি দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন।
চার জেলার মধ্যে সেপ্টেম্বরে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে মৌলভীবাজারে। সবচেয়ে কম নিহত হয়েছেন সুনামগঞ্জে।
মোটরসাইকেল ও সিএনজি-টমটমে বেশি প্রাণহানিনিসচার তথ্য অনুযায়ী, নিহত ২৬ জনের মধ্যে ২২ জন পুরুষ, দুজন নারী ও দুজন শিশু। তাদের মধ্যে ১০ জন মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী এবং ১১ জন সিএনজি ও টমটমের চালক ও যাত্রী। এ ছাড়া ১০ জন চালক ও দুজন পথচারী নিহত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরে নয়টি দুর্ঘটনায় ১০ জন মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী এবং ১০টি দুর্ঘটনায় ১১ জন সিএনজি ও টমটমের চালক ও যাত্রী প্রাণ হারিয়েছেন। ১০টি দুর্ঘটনায় ১০ জন চালক এবং দুটি দুর্ঘটনায় দুজন পথচারী নিহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যানবাহন উল্টে যাওয়ার আটটি ঘটনায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। মুখোমুখি সংঘর্ষের আটটি ঘটনায় প্রাণ গেছে নয়জনের। এ ছাড়া গাছ ও বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে ধাক্কার একটি ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন।
অতিরিক্ত গতি ও ফিটনেসবিহীন যান দায়ীসড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, অনুমোদনহীন ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন মহাসড়কে চলাচল, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার না করা, পথচারীদের অসচেতনতা এবং সড়ক নির্মাণে ত্রুটির কথা উল্লেখ করেছে নিসচা।
নিসচা কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক, সিলেট বিভাগীয় কমিটির সদস্যসচিব ও সিলেট জেলা সভাপতি জহিরুল ইসলাম মিশু জানান, পাঁচটি স্থানীয় দৈনিক ও অনলাইন সংবাদপত্র, দুটি জাতীয় দৈনিকের তথ্য, অনুমেয় অনুজ্জ বা অপ্রকাশিত ঘটনা এবং নিসচার সিলেট বিভাগের বিভিন্ন শাখা থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
আগস্টের তুলনায় কমেছে দুর্ঘটনাআগস্টে সিলেট বিভাগে ৩৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৭ জন নিহত ও ১২২ জন আহত হয়েছিলেন। সে হিসাবে আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে দুর্ঘটনা কমেছে নয়টি। একই সময়ে নিহতের সংখ্যা কমেছে ২১ জন এবং আহতের সংখ্যা কমেছে ৭১ জন।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক